বরিশাল ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে দেশসেরা বিভাগ বরিশাল, জেলা পটুয়াখালী বরিশালের উজিরপুরে ক্লাস চলাকালে শিক্ষকের মাথায় ছাদের পলেস্তারা লোডশেডিংয়ে দিশেহারা বরিশালের মানুষ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল গৌরনদীতে পাচারকালে ১৫ বস্তা সার জব্দ, ডিলারকে জরিমানা সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের আড্ডা নিষেধ, সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে হবে কোচিং স্বর্ণপদকের স্বপ্ন নিয়ে চীনের পথে পটুয়াখালীর রাইয়ান আগৈলঝাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধে রাতের আঁধারে ৫ শতাধিক ফলজ গাছ কাটার অভিযোগ ঝালকাঠিতে হাসপাতাল থেকে ডেকে নিয়ে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ গৌরনদীতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হাঁটু মেঝেতে, জানালার গ্রিলে বাঁধা ছিল মরদেহ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র : তথ্যমন্ত্রী

আট পরীক্ষার্থী, সাত শিক্ষক এসএসসির ফলাফলে সবাই ফেল

Agailjhara Post
  • ০৬:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 33

পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ৮ জনের মধ্যে কেউই পাস করেনি। অথচ এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সাতজন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।

সোমবার (১০ অগাস্ট) ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল সূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে, ৮ জনের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এতে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। তবে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে মোট ৫০ থেকে ৬০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

এদিকে, মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার সুযোগ থাকার পরও সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন অংক ও ইংরেজির শিক্ষক ছিল না। ক্লাসও নিয়মিত হতো না। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হতো।

এদিকে অভিভাবক বাসুদেব বলেন, “আমরা সন্তানদের ৪/৫ টি প্রাইভেট পড়িয়েছি। কিন্তু বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয়নি। কোনো দিন ১০টায় গিয়ে ১১টায় ছুটি হয়ে গেছে, আবার শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরাও চলে এসেছে।”

স্থানীয় কয়েকজন অবিভাবক বলেন , “এখানের মূল সমস্যা হলো বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে কমিটিও নেই। স্কুল সাধারণত ৪ পর্যন্ত চলার কথা, কিন্তু অনেক সময় এর আগেই ছুটি হয়ে যায়। ফলে স্কুল কেন বন্ধ হচ্ছে, কেন শিক্ষার্থীরা পাস করছে না—এগুলো জিজ্ঞেস করার মতো কেউ নেই। ”

তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার বলেন, “একসময় মাত্র তিনজন শিক্ষক ছিল। অংক ও ইংরেজির শিক্ষক না থাকায় ঠিকমতো ক্লাস হয়নি। পরে শিক্ষক পাওয়া গেছে। এখন সাতজন শিক্ষক আছেন। প্রায় এক বছর শিক্ষক সংকট ছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ক্লাস করে না।”

পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়ের রেজাল্টগুলো নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি। রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণগুলো তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আট পরীক্ষার্থী, সাত শিক্ষক এসএসসির ফলাফলে সবাই ফেল

০৬:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ৮ জনের মধ্যে কেউই পাস করেনি। অথচ এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সাতজন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।

সোমবার (১০ অগাস্ট) ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল সূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে, ৮ জনের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এতে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। তবে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে মোট ৫০ থেকে ৬০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

এদিকে, মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার সুযোগ থাকার পরও সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন অংক ও ইংরেজির শিক্ষক ছিল না। ক্লাসও নিয়মিত হতো না। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হতো।

এদিকে অভিভাবক বাসুদেব বলেন, “আমরা সন্তানদের ৪/৫ টি প্রাইভেট পড়িয়েছি। কিন্তু বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয়নি। কোনো দিন ১০টায় গিয়ে ১১টায় ছুটি হয়ে গেছে, আবার শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরাও চলে এসেছে।”

স্থানীয় কয়েকজন অবিভাবক বলেন , “এখানের মূল সমস্যা হলো বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে কমিটিও নেই। স্কুল সাধারণত ৪ পর্যন্ত চলার কথা, কিন্তু অনেক সময় এর আগেই ছুটি হয়ে যায়। ফলে স্কুল কেন বন্ধ হচ্ছে, কেন শিক্ষার্থীরা পাস করছে না—এগুলো জিজ্ঞেস করার মতো কেউ নেই। ”

তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার বলেন, “একসময় মাত্র তিনজন শিক্ষক ছিল। অংক ও ইংরেজির শিক্ষক না থাকায় ঠিকমতো ক্লাস হয়নি। পরে শিক্ষক পাওয়া গেছে। এখন সাতজন শিক্ষক আছেন। প্রায় এক বছর শিক্ষক সংকট ছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ক্লাস করে না।”

পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়ের রেজাল্টগুলো নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি। রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণগুলো তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।