বরিশাল ০৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বরিশালে নদীগর্ভে বিলীনের পথে স্কুল: রক্ষার দাবিতে নদীর তীরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় ৬০ জন শনাক্ত, গ্রেপ্তার ৩২ আগৈলঝাড়ায় ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা বরিশালে হামে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১০০, নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটক গৌরনদীতে টিটিসির অনিয়ম ধামাচাঁপা দিতে এআই দিয়ে ই-পেপার তৈরি করে প্রচার গৌরনদীতে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: চাচার বিরুদ্ধে মামলা, অভিযুক্ত পলাতক বরিশালে হাঁস-মুরগির দোকানেই মেলে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ, দুই দশকে ২৫০ বিয়ে বরিশালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৩

বরিশালে হাঁস-মুরগির দোকানেই মেলে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ, দুই দশকে ২৫০ বিয়ে

Agailjhara Post
  • ১২:৩১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 57

বরিশাল নগরীর চৌমাথা বাজারে সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে মাছ, হাঁস-মুরগি ও মাংসের বাজার। ব্যস্ততার মধ্যেই একটি দোকানের নাম কৌতূহলী করে তোলে পথচারীদের—‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’। দোকানের সামনে সাজানো থাকে দেশি মুরগি, রাজহাঁস, চিনা হাঁস ও কবুতরের বাচ্চা। এক পাশে বিক্রি হয় খাসি, ছাগল ও গরুর মাংস। আর এই দোকানেই বসে কেউ খোঁজেন পাত্র, কেউবা পাত্রী।

হাঁস-মুরগি আর ঘটকালি—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশা হলেও বরিশালের শহিদুল ইসলাম স্বপনের জীবনে এ দুটিই যেন একসঙ্গে মিশে গেছে। প্রায় দুই দশক ধরে ঘটকালির সঙ্গে যুক্ত তিনি। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিয়ে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২৫০টির বেশি বিয়ে করিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।

বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা স্বপন স্থানীয় বারেক চাপরাশির ছেলে। চৌমাথা বাজারে ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ নামে তাঁর দোকান। সেখানে হাঁস-মুরগি ও মাংস বিক্রির পাশাপাশি চলে ঘটকালির কাজ। তাঁর নামে রয়েছে ফেসবুক ও ইউটিউবভিত্তিক ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ কার্যক্রমও।

স্বপন বলেন, ‘আমি ঘটক হিসেবে রায়বারি করি, আবার দেশি মুরগিও বিক্রি করি। দেশি মুরগি, রাজহাঁস, চিনা হাঁস, কবুতরের বাচ্চা থেকে শুরু করে লাইভ ওয়েটে খাসি, ছাগল ও গরুর মাংস বিক্রি করি। পাশাপাশি চলে ঘটকালি।’

দোকানের এমন ব্যতিক্রমী নামের কারণও বেশ মজার। স্বপনের ভাষ্য, অনেকেই হাঁস-মুরগি কিংবা মাংস কিনতে এসে তাঁর কাছে ভালো পাত্র বা পাত্রী খোঁজেন। এভাবে অনেকের বিয়ের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তিনি। তবে তিনি নিজে থেকে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতাদের বিয়ের প্রস্তাব দেন না। বরং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম দেখে অনেকেই সরাসরি যোগাযোগ করেন।

স্বপনের ঘটকালির শুরু অবশ্য কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থেকে হয়নি। নিজের এক ভাইয়ের বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে তাঁর হাতে কয়েক শ পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত আসে। ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও সেসব জীবনবৃত্তান্তের অনেকগুলো তাঁর কাছে থেকে যায়। সেখান থেকেই পরিচিত অন্য পাত্রদের জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করেন তিনি।

এরপর ধীরে ধীরে পাত্র-পাত্রীর অভিভাবকেরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। বাড়তে থাকে পরিচিতি ও যোগাযোগের পরিধি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে এক হাজারের বেশি পাত্র-পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত জমা হয়।

পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিতে তখন ডিশের লাইনের স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করেন স্বপন। এতে বরিশালজুড়ে তাঁর পরিচিতি বাড়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক জনপ্রিয় হলে সেখানেও বিয়ের বিজ্ঞাপন ও তথ্য প্রকাশ শুরু করেন তিনি।

স্বপন জানান, একসময় চৌমাথা সোনালী ব্যাংকের সামনে তাঁর আলাদা অফিস ছিল। কিন্তু বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সেই অফিস ছেড়ে দিতে হয়। পাশাপাশি শুধু ঘটকালির ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট আয় না থাকায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ নামেই চৌমাথা বাজারে হাঁস-মুরগি ও মাংসের ব্যবসা শুরু করেন।

ঘটকালির আয় নিয়েও তাঁর রয়েছে ভিন্ন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি। স্বপনের দাবি, ঘটকালিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকলেও তিনি কখনো সেই পথে হাঁটেননি।

তিনি বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাত্র বা পাত্রীকে বড়লোক ঘরে বিয়ে দিয়ে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। কিন্তু আমি সেসব পারি না। বিয়ের পর দুই পরিবার খুশি হয়ে যা দেয়, তাতেই আমি খুশি।’

স্বপনের ভাষ্য, কোনো কোনো বিয়েতে তিনি ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকশিশ পেয়েছেন। আবার সাধারণভাবে একটি বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে দিলে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা আয় হয়।

তাঁর দাবি, তাঁর ঘটকালির মাধ্যমে হওয়া কিছু বিয়ের পর পাত্র বা পাত্রী বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখনো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং সুখে-দুঃখে তাঁর খোঁজ নেন।

স্বপনের কাছে ঘটকালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুই পরিবারের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা। তিনি বলেন, পাত্র-পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুই পক্ষের কাছে দেওয়া হয়। এরপর পরিবারগুলো নিজেদের মতো করে যাচাই-বাছাই করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

চৌমাথা বাজারের এই দোকানে তাই একই সঙ্গে চলছে দুই ধরনের ব্যস্ততা। একদিকে ক্রেতারা আসছেন হাঁস-মুরগি ও মাংস কিনতে, অন্যদিকে কেউ খুঁজছেন জীবনসঙ্গী। ফলে ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ এখন শুধু একটি দোকানের নাম নয়, অনেকের কাছে পাত্র-পাত্রীর সন্ধানেরও এক ব্যতিক্রমী ঠিকানা।

শহিদুল ইসলাম স্বপনের স্বপ্ন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ চালিয়ে যাওয়া। দুই দশকের ঘটকালিতে তৈরি হওয়া মানুষের সম্পর্ক ও আস্থাকেই তিনি তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বরিশালে হাঁস-মুরগির দোকানেই মেলে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ, দুই দশকে ২৫০ বিয়ে

১২:৩১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বরিশাল নগরীর চৌমাথা বাজারে সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে মাছ, হাঁস-মুরগি ও মাংসের বাজার। ব্যস্ততার মধ্যেই একটি দোকানের নাম কৌতূহলী করে তোলে পথচারীদের—‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’। দোকানের সামনে সাজানো থাকে দেশি মুরগি, রাজহাঁস, চিনা হাঁস ও কবুতরের বাচ্চা। এক পাশে বিক্রি হয় খাসি, ছাগল ও গরুর মাংস। আর এই দোকানেই বসে কেউ খোঁজেন পাত্র, কেউবা পাত্রী।

হাঁস-মুরগি আর ঘটকালি—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশা হলেও বরিশালের শহিদুল ইসলাম স্বপনের জীবনে এ দুটিই যেন একসঙ্গে মিশে গেছে। প্রায় দুই দশক ধরে ঘটকালির সঙ্গে যুক্ত তিনি। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিয়ে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২৫০টির বেশি বিয়ে করিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।

বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা স্বপন স্থানীয় বারেক চাপরাশির ছেলে। চৌমাথা বাজারে ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ নামে তাঁর দোকান। সেখানে হাঁস-মুরগি ও মাংস বিক্রির পাশাপাশি চলে ঘটকালির কাজ। তাঁর নামে রয়েছে ফেসবুক ও ইউটিউবভিত্তিক ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ কার্যক্রমও।

স্বপন বলেন, ‘আমি ঘটক হিসেবে রায়বারি করি, আবার দেশি মুরগিও বিক্রি করি। দেশি মুরগি, রাজহাঁস, চিনা হাঁস, কবুতরের বাচ্চা থেকে শুরু করে লাইভ ওয়েটে খাসি, ছাগল ও গরুর মাংস বিক্রি করি। পাশাপাশি চলে ঘটকালি।’

দোকানের এমন ব্যতিক্রমী নামের কারণও বেশ মজার। স্বপনের ভাষ্য, অনেকেই হাঁস-মুরগি কিংবা মাংস কিনতে এসে তাঁর কাছে ভালো পাত্র বা পাত্রী খোঁজেন। এভাবে অনেকের বিয়ের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তিনি। তবে তিনি নিজে থেকে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতাদের বিয়ের প্রস্তাব দেন না। বরং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম দেখে অনেকেই সরাসরি যোগাযোগ করেন।

স্বপনের ঘটকালির শুরু অবশ্য কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থেকে হয়নি। নিজের এক ভাইয়ের বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে তাঁর হাতে কয়েক শ পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত আসে। ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও সেসব জীবনবৃত্তান্তের অনেকগুলো তাঁর কাছে থেকে যায়। সেখান থেকেই পরিচিত অন্য পাত্রদের জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করেন তিনি।

এরপর ধীরে ধীরে পাত্র-পাত্রীর অভিভাবকেরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। বাড়তে থাকে পরিচিতি ও যোগাযোগের পরিধি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে এক হাজারের বেশি পাত্র-পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত জমা হয়।

পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিতে তখন ডিশের লাইনের স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করেন স্বপন। এতে বরিশালজুড়ে তাঁর পরিচিতি বাড়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক জনপ্রিয় হলে সেখানেও বিয়ের বিজ্ঞাপন ও তথ্য প্রকাশ শুরু করেন তিনি।

স্বপন জানান, একসময় চৌমাথা সোনালী ব্যাংকের সামনে তাঁর আলাদা অফিস ছিল। কিন্তু বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সেই অফিস ছেড়ে দিতে হয়। পাশাপাশি শুধু ঘটকালির ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট আয় না থাকায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ নামেই চৌমাথা বাজারে হাঁস-মুরগি ও মাংসের ব্যবসা শুরু করেন।

ঘটকালির আয় নিয়েও তাঁর রয়েছে ভিন্ন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি। স্বপনের দাবি, ঘটকালিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকলেও তিনি কখনো সেই পথে হাঁটেননি।

তিনি বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাত্র বা পাত্রীকে বড়লোক ঘরে বিয়ে দিয়ে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। কিন্তু আমি সেসব পারি না। বিয়ের পর দুই পরিবার খুশি হয়ে যা দেয়, তাতেই আমি খুশি।’

স্বপনের ভাষ্য, কোনো কোনো বিয়েতে তিনি ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকশিশ পেয়েছেন। আবার সাধারণভাবে একটি বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে দিলে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা আয় হয়।

তাঁর দাবি, তাঁর ঘটকালির মাধ্যমে হওয়া কিছু বিয়ের পর পাত্র বা পাত্রী বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখনো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং সুখে-দুঃখে তাঁর খোঁজ নেন।

স্বপনের কাছে ঘটকালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুই পরিবারের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা। তিনি বলেন, পাত্র-পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুই পক্ষের কাছে দেওয়া হয়। এরপর পরিবারগুলো নিজেদের মতো করে যাচাই-বাছাই করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

চৌমাথা বাজারের এই দোকানে তাই একই সঙ্গে চলছে দুই ধরনের ব্যস্ততা। একদিকে ক্রেতারা আসছেন হাঁস-মুরগি ও মাংস কিনতে, অন্যদিকে কেউ খুঁজছেন জীবনসঙ্গী। ফলে ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ এখন শুধু একটি দোকানের নাম নয়, অনেকের কাছে পাত্র-পাত্রীর সন্ধানেরও এক ব্যতিক্রমী ঠিকানা।

শহিদুল ইসলাম স্বপনের স্বপ্ন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে ‘বরিশাল ম্যারেজ মিডিয়া’ চালিয়ে যাওয়া। দুই দশকের ঘটকালিতে তৈরি হওয়া মানুষের সম্পর্ক ও আস্থাকেই তিনি তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করেন।