বরিশালে বেহাল স্বাস্থ্যসেবা, নিজেই অসুস্থ ১১৪ বছরের সদর হাসপাতাল
- ১২:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 16
বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) নিজেই যেন সংকটে। ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ১১৪ বছরের পুরোনো এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ৬২টি পদের মধ্যে ৩৭টিই শূন্য। জনবল সংকটের পাশাপাশি রয়েছে শয্যা ও অবকাঠামোগত সংকট। ১০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন প্রায় ২০০ রোগী। ফলে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৬২টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। ফলে ৩৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে এই সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
আন্তঃবিভাগে ১০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী ভর্তি থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এতে রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ আরও বেশি। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। মাত্র ২৫ জন চিকিৎসক এসব রোগী দেখায় একজন চিকিৎসকের ওপর গড়ে ৮০ জন রোগীর দায়িত্ব পড়ছে। ফলে রোগীপ্রতি কাঙ্ক্ষিত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পরও অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চিকিৎসা শেষ করতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকার রোগী জামাল হোসেন বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও শয্যা না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে এক রোগ সারাতে এসে অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বহির্বিভাগের রোগী রাসেল হাওলাদার বলেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের দেখা পাওয়ার পর কয়েক মিনিটেই সেবা নিতে হয়েছে। রোগীর চাপ কমাতে দ্রুত চিকিৎসক ও কক্ষের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, জনবল, শয্যাসহ অন্যান্য সংকটের বিষয়গুলো মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক এবং দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, শতবর্ষের পুরোনো এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না হলে রোগীর চাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।





















