বরিশাল ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
বরগুনায় প্লাস্টিকের ব্যাগে জীবিত উদ্ধার নবজাতকের ঠাঁই হলো আগৈলঝাড়ার ছোটমণি নিবাসে আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আদালতে ৬০ বছরের আসামির আত্মসমর্পণ গৌরনদীতে বেদে পল্লীতে দু’পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলা, নারীসহ আহত ১৫ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বরিশালে নদীগর্ভে বিলীনের পথে স্কুল: রক্ষার দাবিতে নদীর তীরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় ৬০ জন শনাক্ত, গ্রেপ্তার ৩২ আগৈলঝাড়ায় ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা বরিশালে হামে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১০০, নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটক গৌরনদীতে টিটিসির অনিয়ম ধামাচাঁপা দিতে এআই দিয়ে ই-পেপার তৈরি করে প্রচার

আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আদালতে ৬০ বছরের আসামির আত্মসমর্পণ

Agailjhara Post
  • ১০:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 5

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি ৬০ বছর বয়সী সাত্তার ফরিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে। তিনি উপজেলার উত্তর শিহিপাশা এলাকার আলেক ফরিয়ার ছেলে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট (বুধবার) দুপুরে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের বড়ইতলা দক্ষিণ গৈলা এলাকায় শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সাত্তার ফরিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সিনাহা আক্তার মুনিয়া (৯) উপজেলার নগরবাড়ী এলাকার দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মনির সরদার ২০১৭ সালে মারা যান। এরপর থেকে তার মা ফাতেমা বেগম মেয়েকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন।

পরিবারের অভিযোগ, সাত্তার ফরিয়া পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে বিভিন্ন সময় শিশুটির বাড়ির আশপাশে যাতায়াত করতেন। এ সুযোগে তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে শিশুটির মা বয়স্ক ভাতার আবেদনের কাজে আগৈলঝাড়া বাজারে যান। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাত্তার ফরিয়া শিশুটির ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে সাত্তার ফরিয়ার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করা হয়।

ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার ছোট মেয়ে মাত্র ৯ বছরের। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করাচ্ছি। আমি চাই, আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”

মুনিয়ার বাড়ির প্রতিবেশী আব্দুর রহমান বলেন, “অপরাধ যে-ই করুক, তার শাস্তি হওয়া উচিত। সে আমার শ্বশুর হলেও অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।”

এদিকে, মামলার আসামি সাত্তার ফরিয়া বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে ধর্ষণের অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আদালতে ৬০ বছরের আসামির আত্মসমর্পণ

১০:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৯ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি ৬০ বছর বয়সী সাত্তার ফরিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে। তিনি উপজেলার উত্তর শিহিপাশা এলাকার আলেক ফরিয়ার ছেলে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট (বুধবার) দুপুরে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের বড়ইতলা দক্ষিণ গৈলা এলাকায় শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সাত্তার ফরিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সিনাহা আক্তার মুনিয়া (৯) উপজেলার নগরবাড়ী এলাকার দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মনির সরদার ২০১৭ সালে মারা যান। এরপর থেকে তার মা ফাতেমা বেগম মেয়েকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন।

পরিবারের অভিযোগ, সাত্তার ফরিয়া পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে বিভিন্ন সময় শিশুটির বাড়ির আশপাশে যাতায়াত করতেন। এ সুযোগে তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে শিশুটির মা বয়স্ক ভাতার আবেদনের কাজে আগৈলঝাড়া বাজারে যান। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাত্তার ফরিয়া শিশুটির ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে সাত্তার ফরিয়ার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করা হয়।

ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার ছোট মেয়ে মাত্র ৯ বছরের। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করাচ্ছি। আমি চাই, আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”

মুনিয়ার বাড়ির প্রতিবেশী আব্দুর রহমান বলেন, “অপরাধ যে-ই করুক, তার শাস্তি হওয়া উচিত। সে আমার শ্বশুর হলেও অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।”

এদিকে, মামলার আসামি সাত্তার ফরিয়া বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে ধর্ষণের অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।