বরগুনায় প্লাস্টিকের ব্যাগে জীবিত উদ্ধার নবজাতকের ঠাঁই হলো আগৈলঝাড়ার ছোটমণি নিবাসে
- ১১:০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 5
বরগুনার বামনায় নারকেল গাছের নিচে প্লাস্টিকের ব্যাগে ফেলে যাওয়া অবস্থায় জীবিত উদ্ধার হওয়া এক নবজাতক কন্যাশিশুর ঠাঁই হয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় অবস্থিত বিভাগীয় ছোটমণি নিবাস কেন্দ্রে। সেখানে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নবজাতকটিকে আগৈলঝাড়া বিভাগীয় ছোটমণি নিবাস কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে প্রশাসনের সহযোগিতায় বিকেলেই নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া বিভাগীয় ছোটমণি নিবাস কেন্দ্রের উপতত্ত্বাবধায়ক সুশান্ত বালা জানান, গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামে একটি নারকেলগাছের নিচে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে নবজাতক কন্যাশিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটির নাড়ি কাটা ছিল না। এছাড়া তার শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া জড়ানো ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে নবজাতকের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও দেখভালের জন্য তাকে বরিশালের আগৈলঝাড়া বিভাগীয় ছোটমণি নিবাস কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে শিশুটির জন্য প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে জানাজানি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরপর আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ সজিবের উদ্যোগে নবজাতকটিকে ঢাকায় পাঠানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়।
বুধবার বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ আহম্মেদ, ছোটমণি নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়ক সুশান্ত বালা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আতাউল্লাহ, একজন নার্স ও আয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
প্লাস্টিকের ব্যাগে নবজাতককে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে কে বা কারা সেখানে ফেলে গেছে, তা খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে।





















