বরিশাল ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
উজিরপুরে খাল খনন শেষে সাশ্রয় হওয়া ৬০ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও উজিরপুরে বিএনপি নেতার বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন, সমালোচনার ঝড় বরিশালে স্কুল ফিডিংয়ে পচা কলা-বাসি ডিম গৌরনদীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক নিহত সারাদেশে বোমা হামলার আশঙ্কা, পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর অংশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি জামালের বরিশালে পুকুরে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু জাসাস নেতা রুহুল আমিনের মায়ের ইন্তেকাল, আগৈলঝাড়ায় দাফন সম্পন্ন; জাসাসের শোক প্রকাশ রাজপথ থেকে আড়ালে বীরেরা: দুই বছর পর কোথায় বরিশালের জুলাই আন্দোলনের ‘প্রতীকী মুখ’রা?

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর অংশ

Agailjhara Post
  • ০২:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 28

কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণে অসংখ্য খানাখন্দে ভরে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর অংশ। সড়কের কোথাও কোথাও পিচ-পাথর একাকার হয়ে জেগে উঠছে টিউমার। আবার কোথাও সৃষ্টি হচ্ছে ছোটবড় গর্ত। যা দেখে বোঝার উপায় এটা নেই এটা ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে গৌরনদী উপজলোর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের অসংখ্য স্থানে ছোট-বড় গর্তের চিত্র। বিশেষ করে ব্যস্ততম টরকী বাসস্ট্যান্ড, মদিনা স্ট্যান্ড, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড হয়ে আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল বাসস্ট্যান্ডের অবস্থা সবচেয়ে বেহাল। এসব বাসস্ট্যান্ডের সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে।বিপর্যস্ত এ মহাসড়কের গর্তের মধ্যে ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে যাচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে জনজীবনের ন্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়নি। মহাসড়কের যেসব জায়গা প্রশস্ত করা হয়েছে। তা উঁচু-নিচু হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। আবার কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। সরু সড়কে অসংখ্য গর্তের পাশাপাশি চালকদের বেপরোয়াগতি এবং বিবেকহীন প্রতিযোগিতায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।

তারা আরও জানিয়েছেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে ভারি যানবাহনের চাঁপায় ইট গুড়ো হয়ে ধুলোর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ছোট যানবাহনের চালক ও পথচারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘ বছর ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মহাসড়কের গৌরনদী অংশের অবস্থা চরম বেহাল।

একাধিক চালকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কের গৌরনদী অংশের কোথাও খানাখন্দ আবার কোথাও ঢেউয়ের মত উঁচু-নিচু। ফলে উঁচু-নিচু এ মহাসড়ক পার হতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চাকা গর্তে পড়ে ইঞ্জিন ও টায়ার-টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন চালকরা।

এ বিষয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তে ভরে গেছে। এছাড়াও মূল অংশের সঙ্গে বর্ধিত অংশ উঁচু-নিচু হওয়ায় কম প্রশস্ত সড়ক দিয়ে ওভার স্পীডে যানবাহনগুলো যাতায়ত করে।

তাছাড়া মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী থ্রি-হুইলারগুলো বর্ধিত অংশে না গিয়ে মূল সড়কে চলাচল করে। যে কারণে সড়কে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। সড়কটি সম্পূর্ণ বর্ধিত করে মেরামত করা হলে এবং চালকদের সচেতন করে তোলা হলে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলেও যোগ করেন তিনি।

বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান জানিয়েছেন, ভারি বর্ষার কারণে সড়কের কোথাও কোথাও গর্ত হয়েছে। সেগুলো আমরা মেরামতের করে যাচ্ছি। তবে বৃষ্টির কারণে তা টেকসই হচ্ছেনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর অংশ

০২:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণে অসংখ্য খানাখন্দে ভরে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর অংশ। সড়কের কোথাও কোথাও পিচ-পাথর একাকার হয়ে জেগে উঠছে টিউমার। আবার কোথাও সৃষ্টি হচ্ছে ছোটবড় গর্ত। যা দেখে বোঝার উপায় এটা নেই এটা ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে গৌরনদী উপজলোর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের অসংখ্য স্থানে ছোট-বড় গর্তের চিত্র। বিশেষ করে ব্যস্ততম টরকী বাসস্ট্যান্ড, মদিনা স্ট্যান্ড, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড হয়ে আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল বাসস্ট্যান্ডের অবস্থা সবচেয়ে বেহাল। এসব বাসস্ট্যান্ডের সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে।বিপর্যস্ত এ মহাসড়কের গর্তের মধ্যে ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে যাচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে জনজীবনের ন্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়নি। মহাসড়কের যেসব জায়গা প্রশস্ত করা হয়েছে। তা উঁচু-নিচু হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। আবার কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। সরু সড়কে অসংখ্য গর্তের পাশাপাশি চালকদের বেপরোয়াগতি এবং বিবেকহীন প্রতিযোগিতায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।

তারা আরও জানিয়েছেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে ভারি যানবাহনের চাঁপায় ইট গুড়ো হয়ে ধুলোর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ছোট যানবাহনের চালক ও পথচারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘ বছর ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মহাসড়কের গৌরনদী অংশের অবস্থা চরম বেহাল।

একাধিক চালকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কের গৌরনদী অংশের কোথাও খানাখন্দ আবার কোথাও ঢেউয়ের মত উঁচু-নিচু। ফলে উঁচু-নিচু এ মহাসড়ক পার হতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চাকা গর্তে পড়ে ইঞ্জিন ও টায়ার-টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন চালকরা।

এ বিষয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তে ভরে গেছে। এছাড়াও মূল অংশের সঙ্গে বর্ধিত অংশ উঁচু-নিচু হওয়ায় কম প্রশস্ত সড়ক দিয়ে ওভার স্পীডে যানবাহনগুলো যাতায়ত করে।

তাছাড়া মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী থ্রি-হুইলারগুলো বর্ধিত অংশে না গিয়ে মূল সড়কে চলাচল করে। যে কারণে সড়কে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। সড়কটি সম্পূর্ণ বর্ধিত করে মেরামত করা হলে এবং চালকদের সচেতন করে তোলা হলে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলেও যোগ করেন তিনি।

বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান জানিয়েছেন, ভারি বর্ষার কারণে সড়কের কোথাও কোথাও গর্ত হয়েছে। সেগুলো আমরা মেরামতের করে যাচ্ছি। তবে বৃষ্টির কারণে তা টেকসই হচ্ছেনা।