গৌরনদীতে খাল পুনঃখননে অব্যবহৃত ৭৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
- ০১:২০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 18
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড়-সরিকল খাল পুনঃখনন প্রকল্পে কাজ শেষ করে অব্যবহৃত ৭৬ লাখ ৯ হাজার ২৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে প্রায় ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি, সেচ, মৎস্যসম্পদ, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা। কাজ বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। অবশিষ্ট ৭৬ লাখ ৯ হাজার ২৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের স্বচ্ছ, সাশ্রয়ী ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন পলি জমে নাব্য হারানো বাটাজোড়-সরিকল খালটি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল। পুনঃখননের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে এসেছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, দেশীয় মাছের আবাস ও প্রজনন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক তৈয়ব আলী শেখ বলেন, আগে সময়মতো জমিতে সেচ দেওয়া কঠিন ছিল। এখন সেচব্যবস্থা সহজ হওয়ায় আবাদ বাড়বে এবং উৎপাদন খরচ কমবে।
কৃষক নিতাই মালি বলেন, পর্যাপ্ত পানির কারণে এখন বছরে তিন মৌসুমে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. কামাল ফকির বলেন, খাল পুনঃখননের সুফল কৃষির পাশাপাশি দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দা অধীর বর্ধন বলেন, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল পানির প্রবাহ সচল করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। তিনি জানান, প্রায় ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই তীরে ৬ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, প্রকল্পের অব্যবহৃত ৭৬ লাখ ৯ হাজার ২৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত টরকি–বাশাইল–সাউথের খাল পুনঃখননে বরাদ্দ দেওয়া হলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আরও বেশি উপকৃত হতেন।
স্থানীয়দের মতে, খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে কৃষি, সেচ, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে। একই সঙ্গে অব্যবহৃত সরকারি অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি প্রশংসনীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।














