বরিশাল ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
রাজপথ থেকে আড়ালে বীরেরা: দুই বছর পর কোথায় বরিশালের জুলাই আন্দোলনের ‘প্রতীকী মুখ’রা? বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে কথিত জামায়াতকর্মী আটক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তিতে বরিশালে ১১ দলীয় জোট ও ইসলামী আন্দোলনের পৃথক কর্মসূচি জুলাই সনদ নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা হলে পরিণতি ভালো হবে না: ফয়জুল করীম বরিশালে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মারামারি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া বরিশাল বিএম কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে গৌরনদী প্রেসক্লাবের বিক্ষোভ ১৮ টাকায় কেনা বায়োস্কোপে ৫০ বছর কেটে গেল আগৈলঝাড়ার প্রবীণ শিল্পী সর্বানন্দের গৌরনদীতে খাল পুনঃখননে অব্যবহৃত ৭৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত ‍দিলেন ইউএনও

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তিতে বরিশালে ১১ দলীয় জোট ও ইসলামী আন্দোলনের পৃথক কর্মসূচি

Agailjhara Post
  • ০৬:০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 18

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বরিশালে পৃথক সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৫ আগস্ট) নগরীর নগর ভবন ও টাউন হল চত্বরে আয়োজিত এসব কর্মসূচি থেকে নেতারা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন তারা।

নগর ভবনের সামনে মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমীর মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

সমাবেশে তিনি বলেন, জনগণের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, ৩১টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে এসেছে। তিনি সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। বরিশালের সাম্প্রতিক ক্যাম্পাস পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বরিশালে সহিংসতার রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সংশ্লিষ্টদের সংযম প্রদর্শন করা উচিত।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বরিশাল মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও মুহাম্মাদ আতিকুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলা আহ্বায়ক আবু সাইদ মুসা, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি সোহেল মাহমুদ এবং জাগপার জেলা সভাপতি মনির হোসাইন।

সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, সদর রোড হয়ে জেলখানা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

অন্যদিকে নগরীর টাউন হল চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে পৃথক গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মাদ লোকমান হাকিম।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা বা চক্রান্তের চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি শুভ হবে না। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এ ঐতিহাসিক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা জাকারিয়া হামিদী, মাওলানা লুৎফর রহমান, মুহাম্মাদ জাকির হোসেন কাফরা, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আজিজ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দীন নাইস, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমদ কাউসার, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু জাফর, ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নগর সভাপতি মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এস. এম. হাসিবুল্লাহ এবং বিএম কলেজের সভাপতি মুহাম্মাদ ইমাম হাসানসহ অন্যান্য নেতারা।

সমাবেশ শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি গণমিছিল বের করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তিতে বরিশালে ১১ দলীয় জোট ও ইসলামী আন্দোলনের পৃথক কর্মসূচি

০৬:০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বরিশালে পৃথক সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৫ আগস্ট) নগরীর নগর ভবন ও টাউন হল চত্বরে আয়োজিত এসব কর্মসূচি থেকে নেতারা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন তারা।

নগর ভবনের সামনে মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমীর মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

সমাবেশে তিনি বলেন, জনগণের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, ৩১টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে এসেছে। তিনি সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। বরিশালের সাম্প্রতিক ক্যাম্পাস পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বরিশালে সহিংসতার রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সংশ্লিষ্টদের সংযম প্রদর্শন করা উচিত।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বরিশাল মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও মুহাম্মাদ আতিকুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলা আহ্বায়ক আবু সাইদ মুসা, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি সোহেল মাহমুদ এবং জাগপার জেলা সভাপতি মনির হোসাইন।

সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, সদর রোড হয়ে জেলখানা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

অন্যদিকে নগরীর টাউন হল চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে পৃথক গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মাদ লোকমান হাকিম।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা বা চক্রান্তের চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি শুভ হবে না। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এ ঐতিহাসিক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা জাকারিয়া হামিদী, মাওলানা লুৎফর রহমান, মুহাম্মাদ জাকির হোসেন কাফরা, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আজিজ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দীন নাইস, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমদ কাউসার, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু জাফর, ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নগর সভাপতি মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এস. এম. হাসিবুল্লাহ এবং বিএম কলেজের সভাপতি মুহাম্মাদ ইমাম হাসানসহ অন্যান্য নেতারা।

সমাবেশ শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি গণমিছিল বের করেন।