ফুটবল তুলতে কীর্তনখোলা নদীতে নেমে নিখোঁজ হয়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু জুনায়েদ। ঢেউয়ের সঙ্গে নদীতে ডুবে গেছে সে। এ সময় ডুবে যাওয়া আরেক কিশোরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বরিশাল নগরীর বেলতালা খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ জুনায়েদ নগরীর পলাশপুর এলাকার ৭ নম্বর গলির মো. জাকির হোসেনের ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম জানায়, তারা নদীর তীরে সাইকেল ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিল। পাশেই ফুটবল নিয়ে খেলা করছিল শিশু জুনায়েদ। হঠাৎ করেই বলটি কীর্তনখোলা নদীতে পড়ে যায়। বলটি তুলতে গিয়ে জুনায়েদ এবং অপর এক শিশু নদীতে পড়ে যায়।
সাইফুল বলেন, ঘটনার সময় জুনায়েদের বড় ভাই জুবায়ের (১৫) সেখানে ছিল। ভাইকে বাঁচাতে তার চিৎকার শুনে আমি ছুটে গিয়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে দুজনকে টেনে তোলার চেষ্টা করি। এ সময় একজনকে টেনে তুলতে পারলেও জুনায়েদ নদীতে তলিয়ে যায়।
সাইফুল জানায়, জুনায়েদ তার হাতের কব্জি ধরা ছিল। হঠাৎ একটি ঢেউয়ের ঝাপটায় জুনায়েদ আমার হাত ছেড়ে দিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। মনে হয়েছে যেন ‘নদীর ভেতর থেকে কেউ তাকে টান দিয়ে’ নিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জুনায়েদকে উদ্ধারে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএসহ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয়। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের একটি টিম ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও অন্য কোনো সংস্থার কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নৌ ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে কীর্তনখোলা নদীর গভীরতা ৮৬ ফুট। সেখানে দুপুর দেড়টা থেকে তাদের চারজন ডুবুরি তল্লাশি চালায়। তবে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার তৎপরতায় বিলম্ব হয়। খোঁজ না পাওয়ায় সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

