ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৫টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার ভুয়া হুমকি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আয়ারল্যান্ড থেকে বুলগেরিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে এসব হুমকি আসে। এতে কয়েকটি উড়োজাহাজকে নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে অবতরণ করতে হয়েছে। কয়েকটি উড়োজাহাজকে নিরাপত্তার স্বার্থে যুদ্ধবিমান দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপজুড়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটল।

রয়টার্স জানিয়েছে, কোনো দেশ এখনো এসব হুমকির জন্য কাউকে দায়ী করেনি। তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও ‘হাইব্রিড হামলা’ পরিচালনার অভিযোগ করে আসছেন। তাঁদের মতে, এসব হামলা তুলনামূলক কম খরচে চালানো যায় এবং দায় অস্বীকার করার সুযোগও থাকে। রাশিয়া অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আজকের ঘটনায় ডেনমার্ক, পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। দেশ তিনটি এর আগে মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার অভিযোগ তুলেছিল। গত আগস্টে লাইপজিগ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় জার্মানিও রাশিয়াকে দায়ী করেছিল।

বুলগেরিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তিনটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে যুদ্ধবিমান দিয়ে নিরাপদে অবতরণে সহায়তা করা হয়েছে। কোপেনহেগেন ও মাদ্রিদ থেকে সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের দুটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়েই অবতরণ করে। তবে লন্ডন থেকে সোফিয়াগামী একটি ফ্লাইটকে প্লোভদিভ শহরে পাঠানো হয়।

স্পেনের গার্ডিয়া সিভিল জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আজ সকাল ৯টার পর ২০ মিনিটের কম সময়ে তিনটি ই-মেইলে বোমা হামলার হুমকি আসে। এতে মাদ্রিদ থেকে প্যারিসগামী এয়ার ইউরোপার দুটি এবং রোম ও মিলান থেকে আসা আইবেরিয়ার চারটি ফ্লাইটের কথা উল্লেখ করা হয়। এর ফলে কয়েকটি উড়োজাহাজের উড্ডয়ন স্থগিত করা হয় এবং যাত্রীদের নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও গ্রিস থেকে আসা ইজিজেটের চারটি ফ্লাইট হুমকি পাওয়ার পরও নিরাপদে অবতরণ করে। চেক পুলিশ জানিয়েছে, হুমকিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা কম বলে তারা মনে করেছে।

এ ছাড়া হেলসিংকি থেকে রোমগামী ফিনএয়ারের একটি উড়োজাহাজকে ইতালির যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে অবতরণ করায়। ভিয়েনাগামী ফিনএয়ারের আরও একটি ফ্লাইটও নিরাপদে অবতরণ করে। পোল্যান্ডের ওয়ারশ থেকে প্যারিসগামী লটের একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় থামিয়ে দেওয়া হয়। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের অন্য উড়োজাহাজে স্থানান্তর করা হয়।

ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিমানবন্দরে দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে রোমগামী অ্যার লিঙ্গাসের একটি ফ্লাইটও ফ্রান্সের এভরো বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হুমকির উদ্দেশ্য শুধু ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত করা নয়, বরং বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, তা পর্যবেক্ষণ করাও হতে পারে।

এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা ও ফরাসি ব্লাড ব্যাংকেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অন্তত সাতটি ফ্লাইট ও একটি প্রমোদতরিতে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে কোথাও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা