বরিশালের আগৈলঝাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় ৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দাপ্তরিক কাজ ও পাঠদানের দ্বৈত চাপ সামলাতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের। জরুরি কাজে শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস নিতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়ায় মোট ৯৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ না হওয়ায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে তাঁদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে একের পর এক পদ শূন্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা, পাঠদান তদারকি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধান শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পদগুলো শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালনায়ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত তদারকি, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অন্যদিকে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উত্তর সেরাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, নাগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, বারপাইকা হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন বিশ্বাস এবং তালতারমাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুচিত্রা রানী বিশ্বাস জানান, দাপ্তরিক কাজে শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই তাঁদের ক্লাস মিস হয়। তখন অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একই সঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁদের।

প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব পালনকারী একাধিক শিক্ষক জানান, দাপ্তরিক কাজ ও সভায় অংশ নিতেই অনেক সময় চলে যায়। ফলে নিয়মিত পাঠদান তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মন্নান মিয়া বলেন, উপজেলার ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদানে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।