বরিশালের উজিরপুরে চার কিলোমিটার এলজিইডি সড়কের পাশে থাকা গাছ ব্যক্তি মালিকানা দাবি করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিন ধরে সড়কের পাশ থেকে অসংখ্য গাছ কেটে নিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ী লোকজন দিয়ে গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে উজিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়। তবে গাছের মালিকানার বিষয়টি স্পষ্ট না করায় তার অভিযোগ আমলে নেয়নি পুলিশ।
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, গত ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে সানুহার থেকে ধামুরা সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখতে পান সড়কের মধ্যবর্তী পল্লী বিদ্যুৎ নামক স্থানে রাস্তার পাশের ৪-৫টি গাছ কাটা। কারা গাছগুলো কেটেছে তা নিশ্চিত হতে না পেরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে কে বা কারা সানুহার-ধামুরা সড়কের সরকারি গাছ মার্ক করে দিয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় গাছ কেটে লুটের মহোৎসব।
এ নিয়ে উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনির সরদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীসহ কয়েকজনকে দায়ী করেন। যদিও তিনি দলীয় নেতাদের অনুরোধে পরবর্তীতে স্ট্যাটাসটি মুছে দেন। তবে গাছ কাটার বিষয়টি সত্য বলেও জানান সাবেক ছাত্রদল নেতা।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উজিরপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। একবার কল কেটে দিলেও পরে আর রিসিভ করেননি।
উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, ‘সানুহার-ধামুরা ৮ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। এজন্য রাস্তার দুই পাশ খোঁড়া হচ্ছে। উন্নয়নের প্রয়োজনে রাস্তার পাশে কিছু রেইন্ট্রি, চাম্বল, শিশুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘৮ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ কিলোমিটার সড়কের পাশে বন বিভাগের গাছ রয়েছে। সেগুলো বন বিভাগ টেন্ডার দিয়ে বিক্রি করেছে। ওই সড়কের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ নামক এলাকার আশেপাশে সড়কের পাশে যে গাছগুলো রয়েছে সেগুলো কে বা কারা কেটে নিচ্ছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী আরও বলেন, এলজিইডি সড়কের পাশে যেই গাছগুলো রয়েছে সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী সরকারি গাছ। কিন্তু স্থানীয় কিছু মানুষ দাবি করছে সেগুলো তারা লাগিয়েছে। এখন সরকারি জমিতে ব্যক্তিগতভাবে গাছ লাগানোর পর সেগুলো চাইলেই কাটা যায় না। সরকারি নিয়ম মেনেই কাটতে হবে। এ কারণেই যেহেতু অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা হচ্ছে বিষয়টি থানায় লিখিত অভিযোগ আকারে জানানো হয়েছে।
তবে ওই সড়কে সামাজিক বনায়নের কোনো গাছ নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, গাছগুলো কাটার জন্য যখন রং দেওয়া হচ্ছিল তখন খবর পেয়ে আমি কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু দেখলাম ওই গাছগুলো আমাদের নয়। ইতোপূর্বে সানুহার থেকে ত্রি-মুখি পর্যন্ত বনায়নের কিছু গাছ। যা দুই বছর আগে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাঝে বণ্টনও হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, গোলাম ফারুক অভি যখন সংসদ সদস্য ছিলেন তখন স্থানীয় যুব সমাজ নিয়ে গাছগুলো সড়কের পাশে লাগিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সড়ক উন্নয়নের প্রয়োজনে গাছগুলো যখন কাটার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয় তখন উপজেলা প্রকৌশলীকে আমাদের দপ্তরে লিখিতভাবে চিঠি দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি কোনো প্রকার চিঠি দেননি। তারা চিঠি দিলে আমরা মূল্য নির্ধারণ করে দিতাম। কাটার এখতিয়ার আমাদের নেই।
বন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি জমিতে কোনো ব্যক্তি গাছ লাগাতে পারবেন কিন্তু কাটার এখতিয়ার তার নেই। তবে কোনো সংস্থার মাধ্যমে যদি লাগানো হয় সেক্ষেত্রে গাছগুলো বিক্রি বা কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। গাছ বিক্রির ২০ শতাংশ টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং যদি কোনো এনজিওর মাধ্যমে লাগানো হয় তবে তারাও কিছু অংশ পাবে। বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে যাবে।
উজিরপুর মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী একটি অভিযোগ নিয়ে আসছিলেন। তবে গাছ কাটার বিষয়ে প্রকৃত অভিযোগকারী তিনিই হবেন কিনা সে বিষয়টি ধোঁয়াশা। কেননা উপজেলা প্রকৌশলী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। সেটা হয়ে থাকলে যে মালিক সে অভিযোগ করবে। এটা সরকারি বা রাস্তার জমির গাছ কিনা সে বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী অভিযোগে উল্লেখ করেনি। বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। তার পরও তিনি অভিযোগটি রেখে গেছে। আমরা অভিযোগপত্রটি রেখেছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী সুজা বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

