ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, একাধিক বিপজ্জনক বাঁক, সড়কের খানাখন্দ এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত এক মাসের বেশি সময়ে মহাসড়কের বরিশাল অংশে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর বাবুগঞ্জের রাকুদিয়া এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর ঢালে বাসের ধাক্কায় রাকুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী রেহানা বেগম (৪৫) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়ক ও দায়ী চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এর আগের দিন ১৪ সেপ্টেম্বর বাবুগঞ্জের রাকুদিয়া নতুনহাট এলাকায় দুই বাসের সংঘর্ষের পর একটি বাস সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। একই দিনে উজিরপুরের নতুন শিকারপুর এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। হাইওয়ে পুলিশ এসব দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি ও চালকদের অসতর্কতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
১৩ সেপ্টেম্বর বাবুগঞ্জের ছয়মাইল এলাকায় ৩৫ যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটা থেকে ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার আগে বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।
এ ছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর গৌরনদীর দক্ষিণ বিজয়পুর ও কটকস্থল এলাকায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল চালক নিহত ও একজন গুরুতর আহত হন। এর আগে ৭ আগস্ট খাঞ্জাপুর এলাকায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রিপন রায় (৪৪) নিহত হন।
মহাসড়কের অবকাঠামোগত সমস্যাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। টানা বর্ষণে গৌরনদী অংশের প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি, পিচ উঠে যাওয়া এবং ভারী যানবাহনের চাপে সড়ক উঁচু-নিচু হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দোয়ারিকা ও শিকারপুর সেতুর মধ্যবর্তী প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক।
পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় এ মহাসড়কে চাপও বেড়েছে। তবে মহাসড়কের অনেক অংশ এখনও তুলনামূলক সরু। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বাজার, বাসস্ট্যান্ড, ধীরগতির যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে বরিশাল বিভাগে ১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
সড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, দুর্ঘটনা কমাতে শুধু দুর্ঘটনার পর মামলা বা যানবাহন জব্দ যথেষ্ট নয়। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে কার্যকর গতিসীমা নিশ্চিত করা, স্পিড ক্যামেরা ও নজরদারি বাড়ানো, চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা জোরদার, সড়কের খানাখন্দ দ্রুত সংস্কার এবং বাজার-বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিরাপদ পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি।

