বরিশাল ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
বরিশালে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মারামারি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া বরিশাল বিএম কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে গৌরনদী প্রেসক্লাবের বিক্ষোভ ১৮ টাকায় কেনা বায়োস্কোপে ৫০ বছর কেটে গেল আগৈলঝাড়ার প্রবীণ শিল্পী সর্বানন্দের গৌরনদীতে খাল পুনঃখননে অব্যবহৃত ৭৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত ‍দিলেন ইউএনও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না বিদ্যুৎ, আগৈলঝাড়ায় তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, গ্রেফতার ২ বরিশালের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ নিখোঁজের এক বছর পর কেয়ারটেকার-পাহারাদার গ্রেপ্তার

চার দিন ধরে বিপৎসীমার ওপরে বরিশালের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ

Agailjhara Post
  • ০৫:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / 71

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিন ধরে বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে বিভাগের বিভিন্ন উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেই সঙ্গে লঞ্চ ও ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে (চলাচলের পথ) এবং পন্টুন পানিতে তলিয়ে গেছে। যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ওঠানামা করতে হচ্ছে। উঁচু জোয়ারের কারণে নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় প্লাবিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার জোয়ারে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার, ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর খেয়াঘাট পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার, দৌলতখান পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি ৪৭ সেন্টিমিটার এবং তজুমদ্দিন পয়েন্টে ১ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, বরগুনার পাথরঘাটা পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার, বরগুনা সদর পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, পিরোজপুরে বলেশ্বর নদে ২২ সেন্টিমিটার এবং বরগুনার আমতলী পয়েন্টে পায়রা নদের পানি ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শনিবার দুপুরের জোয়ারেও একই চিত্র দেখা যায়। জোয়ারের সঙ্গে নদীগুলো আবারও ফুঁসে ওঠে।

পানি বাড়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। প্রবল জোয়ারে ঘাটের সব পন্টুন তলিয়ে গেছে। যাত্রীদের অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

ভোলা নদীবন্দরের কর্মকর্তা নির্মল কুমার রায় বলেন, গতকাল শুক্রবার বিকেলের শেষ জোয়ারে পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠে যাওয়ায় ঘাটের সব পন্টুন তলিয়ে যায়। এতে প্রতিদিন চলাচলকারী প্রায় ৩০টি লঞ্চের আনুমানিক ৫০ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়ছেন। কয়েক দিন ধরেই এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবল জোয়ারের সময় অস্থায়ীভাবে ঘাট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বরগুনার পায়রা নদের আমতলী-বরগুনা ফেরিঘাট এবং বিষখালী নদীর বরইতলা-বাইনচটকি ফেরিঘাটের উভয় প্রান্তে গ্যাংওয়ে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ কারণে ফেরি পারাপারেও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

থেমে থেমে বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বরিশালসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের বাইরে বসবাসকারী অসংখ্য পরিবারের ঘরবাড়িতে হাঁটুসমান পানি ঢুকে পড়েছে।

একইভাবে বরগুনার তালতলী উপজেলার তুতুলবাড়িয়া, খোট্টারচর, জয়ালভাঙ্গা ও ছোট অংকুজানপাড়া এলাকার বাঁধের বাইরে বসবাসকারী অন্তত ৭০০ পরিবার জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নৌকায় করে মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে এবং স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় আবহাওয়া কার্যালয়ের পূর্বাভাস, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন চলতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চার দিন ধরে বিপৎসীমার ওপরে বরিশালের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ

০৫:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিন ধরে বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে বিভাগের বিভিন্ন উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেই সঙ্গে লঞ্চ ও ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে (চলাচলের পথ) এবং পন্টুন পানিতে তলিয়ে গেছে। যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ওঠানামা করতে হচ্ছে। উঁচু জোয়ারের কারণে নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় প্লাবিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার জোয়ারে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার, ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর খেয়াঘাট পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার, দৌলতখান পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি ৪৭ সেন্টিমিটার এবং তজুমদ্দিন পয়েন্টে ১ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, বরগুনার পাথরঘাটা পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার, বরগুনা সদর পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, পিরোজপুরে বলেশ্বর নদে ২২ সেন্টিমিটার এবং বরগুনার আমতলী পয়েন্টে পায়রা নদের পানি ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শনিবার দুপুরের জোয়ারেও একই চিত্র দেখা যায়। জোয়ারের সঙ্গে নদীগুলো আবারও ফুঁসে ওঠে।

পানি বাড়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। প্রবল জোয়ারে ঘাটের সব পন্টুন তলিয়ে গেছে। যাত্রীদের অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

ভোলা নদীবন্দরের কর্মকর্তা নির্মল কুমার রায় বলেন, গতকাল শুক্রবার বিকেলের শেষ জোয়ারে পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠে যাওয়ায় ঘাটের সব পন্টুন তলিয়ে যায়। এতে প্রতিদিন চলাচলকারী প্রায় ৩০টি লঞ্চের আনুমানিক ৫০ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়ছেন। কয়েক দিন ধরেই এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবল জোয়ারের সময় অস্থায়ীভাবে ঘাট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বরগুনার পায়রা নদের আমতলী-বরগুনা ফেরিঘাট এবং বিষখালী নদীর বরইতলা-বাইনচটকি ফেরিঘাটের উভয় প্রান্তে গ্যাংওয়ে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ কারণে ফেরি পারাপারেও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

থেমে থেমে বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বরিশালসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের বাইরে বসবাসকারী অসংখ্য পরিবারের ঘরবাড়িতে হাঁটুসমান পানি ঢুকে পড়েছে।

একইভাবে বরগুনার তালতলী উপজেলার তুতুলবাড়িয়া, খোট্টারচর, জয়ালভাঙ্গা ও ছোট অংকুজানপাড়া এলাকার বাঁধের বাইরে বসবাসকারী অন্তত ৭০০ পরিবার জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নৌকায় করে মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে এবং স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় আবহাওয়া কার্যালয়ের পূর্বাভাস, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন চলতে পারে।