বরিশাল ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগৈলঝাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাণ বাঁচাতে এক মাসের শিশুকে রেখেই ঘর ছাড়লেন গৃহবধূ বরিশালে ১ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার বরিশালের বানারীপাড়ায় সাইবার মামলায় র‍্যাবের জালে আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ ঘোষণা বিশ্বজয়ী হাফেজ জাকারিয়াকে এমপি মাসুদের সংবর্ধনা, অর্ধলাখ টাকা উপহার নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৬৩৩, এখনো নিখোঁজ ২ হাজারেরও বেশি মানুষ বরিশালে দিনের অর্ধেক সময়ই থাকছে না বিদ্যুৎ বরিশালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর মাউশির বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক হলেন জাকির হোসেন

আগৈলঝাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

Agailjhara Post
  • ০১:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 161

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। শনিবার বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এসব অভিযোগ করেন।

তবে রোববার(২৩ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আফজাল হোসাইন বলেন, কাউকে বিনা কারণে মামলার আসামি করা হয়নি। নাদিম নামের একজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে বলেই মামলা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আগৌলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, মোল্লাপাড়া গ্রামে প্রায়ই সাদা পোশাকে অভিযান চালিয়ে স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী তরুণদের আটক করা হয়। পরে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারলে মামলা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জাফর হাওলাদার বলেন , গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে তার ছেলে নাদিম, প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগকে ডিবির এএসআই রাজিব পাল, এসআই আফজাল হোসাইনসহ কয়েকজন আটক করেন। পরে সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও নাদিমকে ১০১ পিস ইয়াবাসহ আটকের অভিযোগে গৌরনদী থানায় মামলা দেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, মামলার এজাহারে দেখানো ঘটনাস্থলের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল নেই এবং সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারাও ঘটনার বিষয়ে অবগত নন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মামলার এক নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না।

অন্যদিকে ডিবির এএসআই রাজিব পালের সোর্স হিসেবে পরিচিত নয়ন ঢালী বলেন, ওই রাতে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং আটক তিনজনের কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলাউল হাসান বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখারও আশ্বাস দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগের তদন্ত, নাদিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুনর্বিবেচনা এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আগৈলঝাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

০১:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। শনিবার বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এসব অভিযোগ করেন।

তবে রোববার(২৩ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আফজাল হোসাইন বলেন, কাউকে বিনা কারণে মামলার আসামি করা হয়নি। নাদিম নামের একজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে বলেই মামলা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আগৌলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, মোল্লাপাড়া গ্রামে প্রায়ই সাদা পোশাকে অভিযান চালিয়ে স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী তরুণদের আটক করা হয়। পরে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারলে মামলা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জাফর হাওলাদার বলেন , গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে তার ছেলে নাদিম, প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগকে ডিবির এএসআই রাজিব পাল, এসআই আফজাল হোসাইনসহ কয়েকজন আটক করেন। পরে সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও নাদিমকে ১০১ পিস ইয়াবাসহ আটকের অভিযোগে গৌরনদী থানায় মামলা দেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, মামলার এজাহারে দেখানো ঘটনাস্থলের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল নেই এবং সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারাও ঘটনার বিষয়ে অবগত নন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মামলার এক নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না।

অন্যদিকে ডিবির এএসআই রাজিব পালের সোর্স হিসেবে পরিচিত নয়ন ঢালী বলেন, ওই রাতে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং আটক তিনজনের কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলাউল হাসান বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখারও আশ্বাস দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগের তদন্ত, নাদিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুনর্বিবেচনা এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।