বরিশাল ০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস-লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৫ আগৈলঝাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাণ বাঁচাতে এক মাসের শিশুকে রেখেই ঘর ছাড়লেন গৃহবধূ বরিশালে ১ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার বরিশালের বানারীপাড়ায় সাইবার মামলায় র‍্যাবের জালে আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ ঘোষণা বিশ্বজয়ী হাফেজ জাকারিয়াকে এমপি মাসুদের সংবর্ধনা, অর্ধলাখ টাকা উপহার নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৬৩৩, এখনো নিখোঁজ ২ হাজারেরও বেশি মানুষ বরিশালে দিনের অর্ধেক সময়ই থাকছে না বিদ্যুৎ বরিশালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

আগৈলঝাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাণ বাঁচাতে এক মাসের শিশুকে রেখেই ঘর ছাড়লেন গৃহবধূ

Agailjhara Post
  • ০৮:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 370

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে প্রাণ বাঁচাতে স্বামীর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এক গৃহবধূ। তবে বাড়ি ছাড়ার সময় মাত্র এক মাস বয়সী বুকের দুধের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিতে পারেননি তিনি। সন্তানকে স্বামীর বাড়িতে রেখে আসার পর কান্না, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ওই মায়ের।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ, প্রায় ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। সর্বশেষ নির্যাতনের পর নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন বলে দাবি করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাসিন্দা চিনু বাড়ৈ প্রায় ১০ বছর আগে একই এলাকার অজিত হালদারের সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

চিনু বাড়ৈর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একই সঙ্গে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, স্বামীর চাহিদা মেটাতে একপর্যায়ে বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এনে দেন তিনি। এরপরও বিভিন্ন সময়ে তাকে পুনরায় টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় সাত মাস আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর বাবার বাড়ি থেকে আর্থিক সহায়তা এনে দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ও সচেতন ব্যক্তিরা একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তার।

লিখিত অভিযোগে চিনু বাড়ৈ আরও উল্লেখ করেন, গত ২৫ আগস্ট সকালে স্বামীর বাড়িতে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং চুল কেটে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে নিজের জীবন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে বাড়ি ছাড়ার সময় মাত্র এক মাস বয়সী শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিতে পারেননি তিনি।

বুকের দুধের বয়সী সন্তানকে স্বামীর বাড়িতে রেখে আসার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই মা। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বামীর বাড়িতে রেখে আসা শিশুকন্যা ও অন্য সন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

চিনু বাড়ৈ বলেন, “আমি নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছি। কিন্তু আমার এক মাসের শিশুকে সঙ্গে নিতে পারিনি। সন্তানকে রেখে আসার কষ্ট আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার সন্তানদের নিরাপত্তা চাই এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই গৃহবধূ। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী অজিত হালদারের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আগৈলঝাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাণ বাঁচাতে এক মাসের শিশুকে রেখেই ঘর ছাড়লেন গৃহবধূ

০৮:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে প্রাণ বাঁচাতে স্বামীর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এক গৃহবধূ। তবে বাড়ি ছাড়ার সময় মাত্র এক মাস বয়সী বুকের দুধের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিতে পারেননি তিনি। সন্তানকে স্বামীর বাড়িতে রেখে আসার পর কান্না, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ওই মায়ের।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ, প্রায় ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। সর্বশেষ নির্যাতনের পর নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন বলে দাবি করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাসিন্দা চিনু বাড়ৈ প্রায় ১০ বছর আগে একই এলাকার অজিত হালদারের সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

চিনু বাড়ৈর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একই সঙ্গে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, স্বামীর চাহিদা মেটাতে একপর্যায়ে বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এনে দেন তিনি। এরপরও বিভিন্ন সময়ে তাকে পুনরায় টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় সাত মাস আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর বাবার বাড়ি থেকে আর্থিক সহায়তা এনে দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ও সচেতন ব্যক্তিরা একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তার।

লিখিত অভিযোগে চিনু বাড়ৈ আরও উল্লেখ করেন, গত ২৫ আগস্ট সকালে স্বামীর বাড়িতে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং চুল কেটে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে নিজের জীবন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে বাড়ি ছাড়ার সময় মাত্র এক মাস বয়সী শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিতে পারেননি তিনি।

বুকের দুধের বয়সী সন্তানকে স্বামীর বাড়িতে রেখে আসার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই মা। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বামীর বাড়িতে রেখে আসা শিশুকন্যা ও অন্য সন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

চিনু বাড়ৈ বলেন, “আমি নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছি। কিন্তু আমার এক মাসের শিশুকে সঙ্গে নিতে পারিনি। সন্তানকে রেখে আসার কষ্ট আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার সন্তানদের নিরাপত্তা চাই এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই গৃহবধূ। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী অজিত হালদারের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।