পটুয়াখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- ০২:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 119
আর মাত্র কয়েক দিন পরই শুরু হওয়ার কথা ছিল এইচএসসি পরীক্ষা। বইয়ের পাতায় ডুবে থাকা এক কিশোরীর চোখে ছিল উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, পরিবারকে ঘিরে ছিল হাজারো আশা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। স্তব্ধ হয়ে গেল একটি সম্ভাবনাময় জীবনের পথচলা।
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বেতাগী গ্রামে সিথী রানী (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সিথী রানী ওই গ্রামের নিত্য শিকদারের মেয়ে এবং দশমিনা সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো পড়াশোনা শেষে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে যায় সিথী। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হঠাৎ কক্ষ থেকে বিকট শব্দ শুনে বাবা নিত্য শিকদার ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়েকে ঝুলতে দেখেন। তার আর্তচিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সিথীর বাবা নিত্য শিকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আর কয়েক দিন পরই আমার মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সে পড়াশোনা করছিল। হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটবে, কখনো ভাবিনি। কেন এমন হলো, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!
সিথী রানীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে মেয়েটি কয়েক দিনের মধ্যে পরীক্ষার হলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তার এমন অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ পুরো এলাকা। সম্ভাবনাময় একটি জীবনের করুণ সমাপ্তি অনেকের মনেই রেখে গেছে বেদনার গভীর ছাপ।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।





















