১ কোটি ২১ লাখ টাকায় সংস্কার, তিন মাসেই ভাঙন আগৈলঝাড়ার সড়কে
- ০৭:১৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 50
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক সংস্কারের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। উপজেলার উত্তর শিহিপাশা থেকে রাজিহার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের কুমার বাড়ি-জোরপোল সংলগ্ন অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর শিহিপাশা থেকে রাজিহার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন থাকায় স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করা হয়।
তবে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার তিন মাস না পেরোতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দেয়। এর মধ্যে কুমার বাড়ি-জোরপোল সংলগ্ন অংশে সড়কের একটি বড় অংশ ভেঙে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা একটি সড়ক মাত্র তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক নয়। সড়ক সংস্কারে ব্যবহৃত উপকরণের মান, কাজের পদ্ধতি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের প্রশ্ন, কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়ক এত অল্প সময়ের মধ্যে কেন ভেঙে পড়ল? বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি সংস্কারকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করতে হবে। পাশাপাশি সংস্কারকাজের মান যাচাই করে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “বৃষ্টির কারণে রাস্তার অংশবিশেষ ভেঙে গেছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে সড়কটি টেকসই ও নিরাপদ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থে নির্মাণ বা সংস্কার করা সড়কের কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর নজরদারি করবে।














