বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী ও ঢাকায় কর্মরত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেই পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব বাকাল গ্রামের মৃত সোলেমান সরদারের ছেলে বাকাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক অলিউর রহমান, মধ্য শিহিপাশা গ্রামের হালিম খলিফার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রবিউল খলিফা, বাকাল গ্রামের হানিফ মৃধার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রাব্বি মৃধা, পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে গৈলা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি কামরুল সরদার, উত্তর শিহিপাশা গ্রামের শাহে আলম সরদারের ছেলে গৈলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সাইফুল সরদার, কালুপাড়া গ্রামের মৃত আশ্রাব সরদারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরোয়ার সরদার এবং মুড়িহার গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাজিব সরদার।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট সড়কের বাকাল-পয়সা এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ ঘটনার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে রাতেই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রাজিব সরদার ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকেই তাকে আটক করে পুলিশ।
তবে এই গ্রেফতার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন। তার দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। বিশেষ করে শিক্ষক অলিউর রহমান ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও পরবর্তী সময়ে আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
আবু সালেহ মো. লিটনের অভিযোগ, ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজিব সরদার এবং গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল সরদারও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে তাদের হয়রানি করে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
একটি ঝটিকা মিছিলের পর সাতজনকে গ্রেফতার, তাদের মধ্যে শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্তি এবং গ্রেফতার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার হয়রানির অভিযোগ— সব মিলিয়ে আগৈলঝাড়ার ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।

