বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিজেরাই কবর তৈরি করে সেটিকে ঘিরে ‘অলৌকিক’ প্রচার ও রহস্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার পরিকল্পনা থেকেই তাঁরা কবরটি তৈরি করেছিলেন বলে প্রশাসনের কাছে স্বীকার করেছেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের অভিযানে তাঁদের দিয়েই কবরটি অপসারণ করা হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ঘরের মেঝেতে তৈরি করা কবরটিকে ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনেও ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রচারিত হয়। কবরটিকে ঘিরে অলৌকিক নানা দাবিতে এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল এবং আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাঁদের দিয়েই তৈরি করা কবরটি ভেঙে অপসারণ করা হয়।

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশাসনের কাছে জানান, তাঁরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার পরিকল্পনা করেন। এর অংশ হিসেবে নিজেরাই কবরটি তৈরি করে সেটিকে ঘিরে রহস্য ও অলৌকিকতার প্রচার চালান বলে তাঁরা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোও তাঁদের ভুল ছিল বলে জানান।

প্রশাসনের অভিযানের মধ্য দিয়ে কবরটিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া রহস্যের অবসান ঘটে। একই সঙ্গে ঘটনাটির পেছনে ঋণসংক্রান্ত প্রতারণার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে।

এদিকে, যাচাই না করে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা বা অলৌকিক দাবির তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচার সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।