অভাবের সংসার। বাবা পেশায় ভ্যানচালক। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন থাকলেও পড়াশোনার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তি হারাননি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী তিথি বিশ্বাস। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি।
তিথির বাবা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সীমিত আয়ের সংসারে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবে দারিদ্র্য তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি তিথি। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জন করেছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
একাত্তর টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভ্যানচালকের মেয়ে তিথি বিশ্বাসের এই সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প।
তিথির এই অর্জন শুধু একটি পরীক্ষার ভালো ফল নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মোট ৫৭ হাজার ৯১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৯৫০ জন।
গত বছর এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬৭৪ জন শিক্ষার্থী।
এমন ফলাফলের মধ্যেও জিপিএ-৫ অর্জন করে নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন তিথি বিশ্বাস। তাঁর সাফল্য মনে করিয়ে দেয়, আর্থিক প্রতিকূলতা শিক্ষার পথে বড় বাধা হলেও অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন সম্ভব।

