বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক অসহায় নারীর ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কার্ডের দুই মাসের বরাদ্দের ৬০ কেজি চাল তাঁর স্বাক্ষর জাল করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য রোজিনা বেগমের বিরুদ্ধে। অভিযোগের মুখে ওই চাল ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য। তবে ঘটনাটিকে ভুল বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী শেফালী বেগম উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৮ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি। সংসারের খরচ চালাতে দুই মেয়েকে বাবার বাড়িতে রেখে ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করেন শেফালী।
জানা গেছে, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুই বছর মেয়াদি ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেন শেফালী। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর নামে একটি কার্ড অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কার্ডটি সংগ্রহ করেন গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রোজিনা বেগম।
শেফালী বেগমের অভিযোগ, তাঁকে কিছু না জানিয়ে তাঁর কার্ডে স্বাক্ষর দিয়ে দুই মাসের বরাদ্দের ৬০ কেজি চাল তুলে নেন ইউপি সদস্য। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর কাছে গেলে প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। পরে চাল ফেরত দেওয়ার কথা জানান রোজিনা বেগম। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বামীহারা শেফালী দুই মেয়েকে বাবার বাড়িতে রেখে ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। তাঁর মতো একজন অসহায় নারীর বরাদ্দের চাল তুলে নেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য রোজিনা বেগম বলেন, ‘শেফালী বেগম ঢাকায় থাকায় তাঁর কার্ডের চাল আগে যিনি পেতেন, দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের এমন এক অসহায় নারীকে দেওয়া হয়েছে। এখন শেফালী এলাকায় এসেছেন। তাঁকে তাঁর বরাদ্দের চাল ফেরত দেওয়া হবে। বিষয়টি ভুল হয়েছে।’
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেন, একজনের নামে বরাদ্দ করা কার্ডের চাল অন্য কারও তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউপি সদস্য রোজিনা বেগমের বিষয়ে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

