বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ইলিয়াস মোল্লা (৩৬) পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সাড়ে তিন বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রুনাইয়ে। ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়া সেই প্রবাসী এবার ফিরছেন নিথর দেহে। দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অন্যদিকে আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্বজনেরা।
নিহত ইলিয়াস মোল্লা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের পূর্ব গোয়াইল গ্রামের মৃত মন্নান মোল্লার ছোট ছেলে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ব্রুনাইয়ের একটি ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তাঁকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জুমার নামাজ আদায়ের জন্য কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন ইলিয়াস। পথে ব্রুনাই শহরের একটি সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির প্রাইভেট কারের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। শুক্রবার দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
ইলিয়াসের সাড়ে তিন বছর আগে ধারদেনা করে ফ্রি ভিসায় ব্রুনাই গিয়েছিলেন। পরিবারের আশা ছিল, বিদেশে কাজ করে সংসারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করবেন। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
ছেলের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা সামিরুন বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ইলিয়াসের মৃত্যুতে আমার সব শেষ হয়ে গেল। কীভাবে চলবে আমাদের সংসার? আমার নাতিদের লেখাপড়া কীভাবে চলবে?’
ইলিয়াসের ভাই খোকন মোল্লা বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর আগে ধারদেনা করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ছোট ভাইকে ব্রুনাই পাঠিয়েছিলাম। এখন তার লাশ দেশে আনার টাকাও আমাদের কাছে নেই।’
এদিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী নাদিরা আক্তার। তিনি সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আকুতি জানিয়েছেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ইলিয়াসের স্বজনেরা। শোকের পাশাপাশি এখন তাঁদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা, কীভাবে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে পাবেন। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতায় দ্রুত ইলিয়াসের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

