বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদকবিরোধী পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চার যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সেরাল চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।

আটকরা হলেন—বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে মেহেদী হাসান (৩৫), ঝালকাঠির রাজাপুর থানার হাইলাকাঠী গ্রামের মৃত মোসলেম খানের ছেলে রাশেদ খান (৩৩), আগৈলঝাড়া উপজেলার বরিয়ালী গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৫) এবং একই গ্রামের আফজাল সন্যামতের ছেলে হৃদয় সন্যামত (২৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ সেরাল চৌরাস্তা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় ১০ পিস ইয়াবাসহ মনিরুল ইসলাম ও হৃদয় সন্যামতকে আটক করা হয়।

পরে ওই অভিযান শেষে পুলিশ সদস্যরা ফেরার পথে সেরাল এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে দ্রুতগতিতে চলতে দেখে থামার সংকেত দেন। তবে মোটরসাইকেল আরোহীরা পুলিশের সংকেত উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে মেহেদী হাসান ও রাশেদ খানকে আটক করে।

আটকের পর তাদের দেহ তল্লাশি করে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রাতে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ্ মো. আনছার উদ্দিন এবং আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী হাসান ও রাশেদ খান দাবি করেন, তারা গৌরনদী উপজেলার টরকী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হিরা মাঝির কাছ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা পাইকারি দামে কিনেছেন। পরে পুলিশের নজর এড়াতে গ্রাম্য সড়ক ব্যবহার করে মোটরসাইকেলে আগৈলঝাড়ার সেরাল হয়ে বরিশাল শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রথমে ১০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করা হয়। পরে ওই অভিযান থেকে ফেরার পথে সন্দেহজনকভাবে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।