সেন্ট মার্টিন নৌরুটে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমোদন পেয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে জাহাজ তিনটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহাজমালিকেরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক শাখার উপপরিচালক সালমা আফরোজ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আজ বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। জাহাজ তিনটিতে মোট ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২৫ অক্টোবরের এক প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় চার দিন দ্বীপে জাহাজ চলাচল করেনি।

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতিতে আগামীকাল সকাল থেকে জাহাজ তিনটি কক্সবাজার শহর থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর আজকের পত্রিকাকে বলেন, অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ বৃহস্পতিবার সকালে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

এমভি বার আউলিয়ার যাত্রীধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার ঘাট থেকে যাত্রা করে বিকেল আড়াইটায় সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাবে।

এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ঘাট থেকে যাত্রা করবে এবং সেন্ট মার্টিন ঘাট থেকে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ফিরবে।

এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ঘাট থেকে যাত্রা করে বিকেল সাড়ে ৩টায় দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সরকার ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে চার মাস পর্যটকদের এই দারুচিনি দ্বীপে যাতায়াত ও রাত্রিবাসের অনুমতি দিয়েছে। ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আগের বছরের প্রজ্ঞাপনে আরোপিত বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। কেউ কেয়াবনে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেয়াফল সংগ্রহ, ক্রয় ও বিক্রয়ও নিষিদ্ধ।

সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ। সেই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা