বরিশাল ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগৈলঝাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা বরিশালে মানবপাচারের দায়ে সৌদি প্রবাসী ৩ ভাই ও এক বোনের কারাদণ্ড বরিশালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সেই রোহিঙ্গা তরুণীর ৩ বছরের কারাদণ্ড শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ বরিশালের ৬ লেন সড়কসহ বড় উন্নয়ন দাবিতে মিলল প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস পিরোজপুরে জেলা প্রশাসকের অভিভাবকত্বে এতিম কন্যার বিয়ে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, অংশ নিয়েছেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বাবুগঞ্জের জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী, দেখলেন অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা বরিশাল নগরীর সাগরদীতে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ বরিশালে শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, নিজেই তুললেন সেলফি

কুয়াকাটায় গভীর সাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘সুন্দরী মাছ’

Agailjhara Post
  • ০৭:০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / 59

পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’। হলুদ, নীল ও কালো রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা আকর্ষণীয় এ মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও পরিচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে এলাকায় বসবাসকারী এ মাছ বাংলাদেশে খুবই কম দেখা যায়।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরের দিকে মাছটি আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সিফাত ফিস আড়তে আনা হয়।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের মাছটি ধরা পড়ে।

ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে সুন্দর হওয়ায় আলাদা করে তীরে নিয়ে এসেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাইনুল ও মৎস্যজীবী মো. হোসেন জানান, দীর্ঘদিন সমুদ্রে মাছ ধরলেও এমন রঙিন ও অদ্ভুত সুন্দর মাছ সচরাচর দেখা যায় না। খবর পেয়ে কৌতূহলবশত তারা মাছটি দেখতে আসেন।

সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী ও মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের মাছ সাধারণত এ উপকূলে পাওয়া যায় না। বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদাও নেই। তবে বিরল ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় মাছটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’-এর বৈজ্ঞানিক নাম Acanthurus lineatus। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ ও ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামেও পরিচিত। এরা মূলত সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে এবং প্রবালপ্রাচীরের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, মাছটির লেজের গোড়ায় অত্যন্ত ধারালো কাঁটা থাকে। আত্মরক্ষার সময় এটি দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত হতে পারে। বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝে-মধ্যে এদের দেখা মেলে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, আমাদের উপকূলে এ মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না, তবে বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক পরিবেশে এদের বিচরণ রয়েছে। তবে লেজের ধারালো কাঁটার কারণে জেলেদের মাছটি ধরার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুয়াকাটায় গভীর সাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘সুন্দরী মাছ’

০৭:০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’। হলুদ, নীল ও কালো রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা আকর্ষণীয় এ মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও পরিচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে এলাকায় বসবাসকারী এ মাছ বাংলাদেশে খুবই কম দেখা যায়।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরের দিকে মাছটি আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সিফাত ফিস আড়তে আনা হয়।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের মাছটি ধরা পড়ে।

ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে সুন্দর হওয়ায় আলাদা করে তীরে নিয়ে এসেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাইনুল ও মৎস্যজীবী মো. হোসেন জানান, দীর্ঘদিন সমুদ্রে মাছ ধরলেও এমন রঙিন ও অদ্ভুত সুন্দর মাছ সচরাচর দেখা যায় না। খবর পেয়ে কৌতূহলবশত তারা মাছটি দেখতে আসেন।

সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী ও মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের মাছ সাধারণত এ উপকূলে পাওয়া যায় না। বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদাও নেই। তবে বিরল ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় মাছটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’-এর বৈজ্ঞানিক নাম Acanthurus lineatus। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ ও ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামেও পরিচিত। এরা মূলত সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে এবং প্রবালপ্রাচীরের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, মাছটির লেজের গোড়ায় অত্যন্ত ধারালো কাঁটা থাকে। আত্মরক্ষার সময় এটি দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত হতে পারে। বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝে-মধ্যে এদের দেখা মেলে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, আমাদের উপকূলে এ মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না, তবে বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক পরিবেশে এদের বিচরণ রয়েছে। তবে লেজের ধারালো কাঁটার কারণে জেলেদের মাছটি ধরার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।