আগৈলঝাড়ায় আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৮
- ০৯:২১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 142
পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় তিনশ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মামলার ১৮ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আগৈলঝাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে চুরির মামলার আসামি মো. রিয়াজ ফকিরকে (২৬) গ্রেফতার করেন এসআই মাসুদুর রহমান। রাতে থানা হাজতে থাকাকালে রিয়াজ নিজের মাথায় হাজতের লোহার গ্রিলে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রিয়াজ বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে রিয়াজের বাবা মো. সিদ্দিক ফকির বরিশাল থেকে এলাকায় ফিরে তার ছেলের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে দেন।
গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে থানা ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে তারা থানার মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ডিউটি অফিসারের কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় হামলাকারীরা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আব্দুল হালিমকে টানা-হেঁচড়া ও মারধর করেন।
তাদের বাধা দিতে গেলে কনস্টেবল মো. আল আমিন, মো. লিমন হোসেন ফরহাদ এবং মো. ফরহাদ হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় এএসআই মো. আব্দুল হালিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন সিদ্দিক ফকির (৬০), মান্নান ফকির (৬৫), তানজিলা বেগম (২৬), রিফাত ফকির (১৮), নাঈম ফকির (১৮), রাজু হাওলাদার (১৮), মো. সবুজ ফকির (৩২), নাছিমা ওরফে রেখা বেগম (৪৫), মমতাজ বেগম (৬০), হাবিবুর রহমান (৪৫), গিয়াস উদ্দিন ফকির (৬২), মনোয়ার বেগম (৫০), ময়না বেগম (৪৮), আসমা বেগম (৩৪), নাজমা আক্তার (৪০), ঝুমুর আক্তার (৩৬), শারমিন আক্তার (২৫) এবং মোসা. তাহমিনা (৫০)। তারা সবাই উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশী গ্রামের বাসিন্দা।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।’





















