বরিশাল ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগৈলঝাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা বরিশালে মানবপাচারের দায়ে সৌদি প্রবাসী ৩ ভাই ও এক বোনের কারাদণ্ড বরিশালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সেই রোহিঙ্গা তরুণীর ৩ বছরের কারাদণ্ড শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ বরিশালের ৬ লেন সড়কসহ বড় উন্নয়ন দাবিতে মিলল প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস পিরোজপুরে জেলা প্রশাসকের অভিভাবকত্বে এতিম কন্যার বিয়ে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, অংশ নিয়েছেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বাবুগঞ্জের জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী, দেখলেন অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা বরিশাল নগরীর সাগরদীতে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ বরিশালে শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, নিজেই তুললেন সেলফি

বরিশালে যোগদানের পরই ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষে তালা

Agailjhara Post
  • ০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 380

বরিশালে নতুন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার সকালে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডের স্বাস্থ্য ভবনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক লোকমান হাকিম।

তিনি বলেন, “রোববার এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা কার্যালয়ে থাকার পর তিনি কাউকে কিছু না বলে চলে যান।”

লোকমান হাকিম বলেন, “এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শিক্ষার্থী স্লোগান দিতে দিতে স্বাস্থ্য ভবনে এসে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।”

তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় তার ভূমিকার কারণে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। এখন তাকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক করা হয়েছে। বিষয়টি আন্দোলনকারীদের পছন্দ হয়নি। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হবে।”

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক থাকাকালে মনিরুজ্জামান শাহীন জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাধা দেন। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা করেন এবং শান্তি সমাবেশের নামে আন্দোলনের বিরোধিতা করেন।

বরিশালের বেসরকারি অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী পারভেজ মোশারেফ বলেন, “তাকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তার পদায়নের সঙ্গে জড়িতদেরও শাস্তি চাই।”

চিকিৎসক আকিবুজ্জামান বলেন, “মনিরুজ্জামান শাহীন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের দোসর। তাকে পরিচালক হিসেবে দেখতে চাই না।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, “আমি প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলাম। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। যোগদানের পর বিক্ষোভ শুরুর আগেই আমি কার্যালয় ছেড়ে চলে আসি। পরে শুনেছি, আমার কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে।”

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে রোববার মনিরুজ্জামান শাহীনকে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বরিশালে যোগদানের পরই ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষে তালা

০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বরিশালে নতুন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার সকালে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডের স্বাস্থ্য ভবনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক লোকমান হাকিম।

তিনি বলেন, “রোববার এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা কার্যালয়ে থাকার পর তিনি কাউকে কিছু না বলে চলে যান।”

লোকমান হাকিম বলেন, “এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শিক্ষার্থী স্লোগান দিতে দিতে স্বাস্থ্য ভবনে এসে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।”

তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় তার ভূমিকার কারণে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। এখন তাকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক করা হয়েছে। বিষয়টি আন্দোলনকারীদের পছন্দ হয়নি। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হবে।”

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক থাকাকালে মনিরুজ্জামান শাহীন জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাধা দেন। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা করেন এবং শান্তি সমাবেশের নামে আন্দোলনের বিরোধিতা করেন।

বরিশালের বেসরকারি অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী পারভেজ মোশারেফ বলেন, “তাকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তার পদায়নের সঙ্গে জড়িতদেরও শাস্তি চাই।”

চিকিৎসক আকিবুজ্জামান বলেন, “মনিরুজ্জামান শাহীন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের দোসর। তাকে পরিচালক হিসেবে দেখতে চাই না।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, “আমি প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলাম। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। যোগদানের পর বিক্ষোভ শুরুর আগেই আমি কার্যালয় ছেড়ে চলে আসি। পরে শুনেছি, আমার কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে।”

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে রোববার মনিরুজ্জামান শাহীনকে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ছিলেন।