বরিশাল ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগৈলঝাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা বরিশালে মানবপাচারের দায়ে সৌদি প্রবাসী ৩ ভাই ও এক বোনের কারাদণ্ড বরিশালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সেই রোহিঙ্গা তরুণীর ৩ বছরের কারাদণ্ড শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ বরিশালের ৬ লেন সড়কসহ বড় উন্নয়ন দাবিতে মিলল প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস পিরোজপুরে জেলা প্রশাসকের অভিভাবকত্বে এতিম কন্যার বিয়ে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, অংশ নিয়েছেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বাবুগঞ্জের জঙ্গলে সেনাবাহিনীর মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী, দেখলেন অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা বরিশাল নগরীর সাগরদীতে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ বরিশালে শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, নিজেই তুললেন সেলফি

ইতিহাসের নিদর্শন বরিশালের বাকেরগঞ্জের মুগা খান জামে মসজিদ

Agailjhara Post
  • ০৭:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 172

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের চরামদ্দি গ্রামের মিয়া বাড়ির হাট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মুগা খান জামে মসজিদ। প্রায় চার শতাব্দীর ইতিহাস বয়ে চলা এই মসজিদটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। শত বছর ধরে ধর্মীয়, সামাজিক ও ঐতিহ্যগত গুরুত্ব ধরে রেখেছে এই মসজিদটি।

ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বরিশালের প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইসমাইল চৌধুরীর পরিবারের আদি পুরুষ মুগা খানের নাম জড়িত। ধারণা করা হয়, মুঘল আমলের শেষভাগে তিনি এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। চরামদ্দি গ্রামের প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গেও মসজিদটির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি ইট, চুন ও সুরকির সমন্বয়ে নির্মিত। এর দেয়ালের অলংকরণ, খিলান ও নির্মাণশৈলীতে মুঘল স্থাপত্যের প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়ালে কোরআনের আয়াতের নান্দনিক লিপিকর্ম দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় ২০১৭ সালে মসজিদটির সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালের শেষদিকে তা সম্পন্ন হয়। তবে সংস্কারের সময় মূল ঐতিহাসিক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি হেফজ মাদরাসা ও একটি কওমি মাদরাসাও পরিচালিত হচ্ছে।

শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই নয়, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবেও মুগা খান জামে মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম। জুমা ও ঈদের নামাজ ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীরাও মসজিদটি দেখতে আসেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শতাব্দী প্রাচীন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে আরও সুপরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও পরিচিত করে তুলতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ। যথাযথ সংরক্ষণ, তথ্যফলক স্থাপন এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হলে মুগা খান জামে মসজিদ দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইতিহাসের নিদর্শন বরিশালের বাকেরগঞ্জের মুগা খান জামে মসজিদ

০৭:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের চরামদ্দি গ্রামের মিয়া বাড়ির হাট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মুগা খান জামে মসজিদ। প্রায় চার শতাব্দীর ইতিহাস বয়ে চলা এই মসজিদটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। শত বছর ধরে ধর্মীয়, সামাজিক ও ঐতিহ্যগত গুরুত্ব ধরে রেখেছে এই মসজিদটি।

ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বরিশালের প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইসমাইল চৌধুরীর পরিবারের আদি পুরুষ মুগা খানের নাম জড়িত। ধারণা করা হয়, মুঘল আমলের শেষভাগে তিনি এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। চরামদ্দি গ্রামের প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গেও মসজিদটির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি ইট, চুন ও সুরকির সমন্বয়ে নির্মিত। এর দেয়ালের অলংকরণ, খিলান ও নির্মাণশৈলীতে মুঘল স্থাপত্যের প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়ালে কোরআনের আয়াতের নান্দনিক লিপিকর্ম দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় ২০১৭ সালে মসজিদটির সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালের শেষদিকে তা সম্পন্ন হয়। তবে সংস্কারের সময় মূল ঐতিহাসিক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি হেফজ মাদরাসা ও একটি কওমি মাদরাসাও পরিচালিত হচ্ছে।

শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই নয়, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবেও মুগা খান জামে মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম। জুমা ও ঈদের নামাজ ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীরাও মসজিদটি দেখতে আসেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শতাব্দী প্রাচীন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে আরও সুপরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও পরিচিত করে তুলতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ। যথাযথ সংরক্ষণ, তথ্যফলক স্থাপন এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হলে মুগা খান জামে মসজিদ দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।