গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ
- ০৪:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 41
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। সমাবেশে বক্তারা সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) নগরীতে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার যদি জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের রাজনৈতিক পরিণতিও অতীতের সরকারের মতো হতে পারে।’’
তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মূল চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মাওলানা বাবর বলেন, ‘‘৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে। জনগণ আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রত্যাবর্তন মেনে নেবে না।’’
তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত।
গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে শুরুতে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন। তার দাবি, পরবর্তীতে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘জুলাইয়ের গণহত্যা, গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।’’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির অনুসারীরা বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা কর্মসূচির মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেন।
সমাবেশে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে বিচার, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার অপরিহার্য।
মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ আতিকুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির বরিশাল জেলা সভাপতি আবু সাঈদ মুসা, বরিশাল মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, জাগপা বরিশাল জেলা সভাপতি মো. মনির হোসেন, এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্যসচিব জি এম রাব্বি, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান এবং ছাত্রশিবিরের বরিশাল মহানগর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া সমাবেশে মহানগর কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা শফিউল্লাহ তালুকদার, মাহফুজুর রহমান আমিনসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।




















