বরিশালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ
- ০২:০০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 106
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালটিতে ৮ শয্যার আইসিইউ চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় কোনো আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আইসিইউ ইউনিট পরিচালনার জন্য একজন সহযোগী অধ্যাপক, দুজন সহকারী অধ্যাপক, একজন রেজিস্ট্রার এবং দুজন কনসালটেন্ট থাকার কথা। তবে বর্তমানে এসব পদের একটিতেও কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় সীমিত জনবল নিয়ে আইসিইউ পরিচালনা করতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে একজন অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে আইসিইউর দায়িত্ব পালন করছেন। জাহিদ নামের ওই চিকিৎসক সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েই পুরো ইউনিট পরিচালনার চেষ্টা করছেন। তবে একটি আধুনিক আইসিইউ পরিচালনার জন্য শুধু যন্ত্রপাতি বা শয্যা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিবিড় পরিচর্যা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, দক্ষ টেকনোলজিস্ট এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।
আইসিইউ বিভাগে কর্মরতদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসক সংকটের বড় চাপ সামলাতে হচ্ছে নার্সদেরও। রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার লাখো মানুষের একমাত্র ভরসার সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত রোগী দুর্ঘটনা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট, জটিল সংক্রমণসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এসব রোগীর অনেকের জীবন রক্ষায় আইসিইউ সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলায় ৫০ শয্যার একটি আধুনিক আইসিইউ নির্মাণের কাজ চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি চালুর জন্য প্রস্তুত হবে।
তবে নতুন আইসিইউ চালু নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বর্তমানে ৮ শয্যার আইসিইউই প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে ৫০ শয্যার নতুন আইসিইউ চালু হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ না হলে সেই ইউনিট কার্যকরভাবে পরিচালনা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরাও মনে করছেন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় নতুন আইসিইউ ভবন নির্মাণ হলেও রোগীরা প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, আইসিইউতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যাবে। নতুন ৫০ শয্যার আইসিইউ চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের রোগীরা আরও উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবেন। তবে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া নতুন ইউনিট চালু ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হবে।”
দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দীর্ঘদিনের সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন রোগী, স্বজন এবং স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে আইসিইউ সেবার মান নিশ্চিত করা গেলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর হবে এবং অনেক মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে।




















