ফ্যাসিস্টবাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতির দাবিতে ববি ছাত্রদলের স্মারকলিপি
- ০৬:৫৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 197
জুলাই আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন সরকারের ফ্যাসিস্টবাহিনী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। প্রথম ফ্যাসিস্টবাহিনী মুক্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সিন্ডিকেট স্বীকৃতির দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘আমরা ববি শাখা ছাত্রদল উপাচার্য মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের (সিন্ডিকেট) নিকট একটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও ঐতিহাসিক দাবি উত্থাপন করছি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের ছাত্রসমাজ বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ডাক দেয়। এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রগামী ভূমিকায় স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।’’
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘বিগত ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাদের দলীয় ক্যাডারবাহিনী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়কে ইতিহাসের অন্যতম বর্বর ও নৃশংস হামলা চালায়। সেই রক্তঝরা দিনে বুক ফুলিয়ে বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল আমাদের সহপাঠী ও ভাইয়েরা। শিক্ষার্থীদের অদম্য সাহসিকতা এবং প্রতিরোধের মুখে সেদিন স্বৈরাচারের পেটোয়াবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। ১৮ জুলাইয়ের সেই সাহসী প্রতিরোধই বরিশালে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধে আমাদের বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন, যার ক্ষত অনেকেই আজীবন বহন করবেন। এই আত্মত্যাগ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের পাতায় নয়, বরং বাংলাদেশের গৌরবময় গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।’’
‘‘আমাদের দাবি: শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীবৃন্দের এই অসীম সাহসিকতা এবং ত্যাগের স্মৃতিকে ক্যাম্পাসের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে ১৮ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রথম ফ্যাসিস্টবাহিনী মুক্ত দিবস’ হিসেবে সিন্ডিকেট স্বীকৃতি প্রদান করা হোক। আমরা আশা করি, আপনি শিক্ষার্থীদের এই আবেগময় ও যৌক্তিক দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করবেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’’




















