গৌরনদীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে জখমের অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে
- ১০:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / 132
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারিয়া আক্তার (২৭) নামের দুই সন্তানের জননীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে গৌরনদী উপজেলার বিল্বগ্রাম এলাকার মৃত শহিদ তালুকদারের ছেলে হাসান তালুকদারের (৩৮) সঙ্গে পিঙ্গলাকাঠি গ্রামের মাওলানা আ. লতিফ খন্দকারের মেয়ে মারিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মারিয়ার পরিবার থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার উপহার ও যৌতুক দেওয়া হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৫ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারিয়া আক্তার অভিযোগ করে জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন স্বামী হাসান তালুকদার। এতে ইন্ধন দিতেন দেবর আসাদ তালুকদার (৩৫) ও দেবরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৫)। কিছু দিন আগে ঢাকায় ব্যবসায়ের কথা বলে তিন লাখ টাকা দাবি করলে মারিয়ার বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দেওয়া হয়।
এর কিছু দিন পর হাসান তালুকদার মনি আক্তার নামের নারীকে বিয়ে করে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছিলেন না। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মারিয়ার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই দুপুরে স্বামী হাসান তালুকদার ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মনি আক্তার বাড়িতে গিয়ে পুনরায় দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মারিয়া টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্বামী, দেবর, দেবরের স্ত্রী ও সতীন মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। মারিয়ার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান অভিযুক্তরা।
পরে স্বজনরা খবর পেয়ে মারিয়াকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও দেবরসহ চারজনকে আসামি করে গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘অভিযোগটি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’














