বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ ক্রিকেট খেলতে থাকা বাংলাদেশ হঠাৎ নিজেদের সেরা ছন্দ হারিয়েছে। পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে দাপুটে ক্রিকেট খেলার পর সবশেষ দুটি ম্যাচে ভিন্ন চিত্র ছিল বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে।
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা থাকার পরও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। সবশেষ মিরপুর টেস্টের চিত্র তো আরও ভয়াবহ। নিজেদের সুবিধামতো স্পিনিং উইকেট বানিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ন্যুনতম লড়াই করতে পারেনি স্বাগতিকেরা। আলোক স্বল্পতা, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে খেলা নয়বার বন্ধ হওয়ার পরও সাড়ে তিন দিনেই ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।
টানা দুই ম্যাচে জয়হীন থাকায় বিশ্ব টেস্টে চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা এখন আর আগের মতো নেই। ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। আগামীকাল সিলেটে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট খেলতে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তাঁর মতে, অনুশীলনে ঘাম ঝরালেও মাঠে সেটা কাজে লাগাতে পারছে না দল।
সিমন্স বলেন, ‘ছেলেরা আগের মতো, অর্থাৎ ডারউইনে বা পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার আগে যেভাবে আমরা কঠোর পরিশ্রম করতো, ঠিক একই তীব্রতা নিয়ে এখনো কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো, ম্যাচে সেটি কাজে লাগানো পারছে না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেন ম্যাচেও আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। কেবল মাঠের বাইরে কঠোর পরিশ্রম করলেই চলবে না।’
সাম্প্রতিক সময়ের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে ব্যাটারদের ঘাড়ে বেশি দায় চাপালেন সিমন্স, ‘ডারউইন টেস্টের পর থেকে আমরা অতটা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। প্রমাণ করেছি যে, আমাদের সামর্থ্য আছে। কিন্তু তারপর থেকে আমরা যে সংস্করণগুলোতে খেলেছি, সেখানে ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।
মিরপুর টেস্টের মতো সিলেটে যে স্পিনিং উইকেটে হচ্ছে না, সেটাও জানালেন সিমন্স, ‘উইকেট ভালো দেখাচ্ছে। গত বছর কিংবা চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা উইকেটের কথাই আমার মনে পড়ছে, এটি দেখতে তেমনই মনে হচ্ছে। বেশ ভালো একটা উইকেট।’
সূত্র: আজকের পত্রিকা

