মানুষ মাত্রই জীবনযাত্রার তাগিদে হালাল রিজিক ও আর্থিক সচ্ছলতার অন্বেষণ করে। তবে বাহ্যিক চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর রহমত ও বরকত ছাড়া প্রকৃত সচ্ছলতা অর্জন সম্ভব নয়। ইসলামে রিজিক বৃদ্ধি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের জন্য অত্যন্ত চমৎকার ও কার্যকর কিছু দোয়া শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজ মুখে এমন একটি দোয়া নিয়মিত পাঠ করতেন, যার মধ্যে বান্দার জীবনের সমস্ত চাওয়াপাওয়া ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এই নিবন্ধে আমরা সেই বিশেষ দোয়াটির আরবি, সঠিক উচ্চারণ, অনুবাদ এবং এর গভীর তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي

হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—একদিন আমি নবীজিকে (সা.) অজুর পানি এনে দিলাম এবং তিনি অজু করলেন। এরপর আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি এই দোয়াটি পাঠ করছেন:

তখন আমি আরজ করলাম, ‘হে আল্লাহর নবী! আমি তো আপনাকে এই এই দোয়া করতে শুনলাম।’

উত্তরে প্রিয় নবী (সা.) বললেন, ‘এই দোয়ার মধ্যে কি (কল্যাণের) আর কিছু বাদ পড়েছে?’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

এই সংক্ষিপ্ত দোয়াটি অত্যন্ত ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী অর্থ বহন করে। দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ যেন এই একটিমাত্র দোয়ার মাঝে নিহিত রয়েছে। নিচে দোয়াটির প্রতিটি অংশের চমৎকার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো:

দোয়ার প্রথম অংশে বান্দা মহান আল্লাহর দরবারে তার সমস্ত পাপ ও ত্রুটি মোচনের আকুতি জানায়। কারণ, পাপের কালিমা যখন মানুষের জীবনে স্তূপীকৃত হতে থাকে, তখন তা ধীরে ধীরে মানুষের কোমল অন্তরকে কঠিন করে তোলে। এটি মানুষের বর্তমান জীবন ও চূড়ান্ত পরিণামকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তাই পার্থিব কোনো প্রশান্তি বা রিজিক চাওয়ার আগে নিজের আত্মাকে পাপমুক্ত ও পবিত্র করে নেওয়া মুমিনের কাছে সর্বাগ্রে কাম্য।

দ্বিতীয় অংশে দুনিয়ার আবাসস্থলকে প্রশস্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার প্রার্থনা করা হয়েছে। কেননা, সংকীর্ণ বাসস্থান, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব কিংবা অস্বস্তিকর পরিবেশ মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি করে এবং মনকে বিষণ্ন করে তোলে।

এর পাশাপাশি, এই প্রার্থনার অন্তর্নিহিত আরেকটি সুমহান অর্থ হলো পরকালের প্রথম ঠিকানা ‘কবর’ প্রশস্ত হওয়া—তা যেন জান্নাতের সুশীতল বাগিচায় পরিণত হয়। এর মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি একই সঙ্গে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানের আবাসস্থলেই স্বস্তি ও প্রশান্তি কামনা করেন।

দোয়ার শেষাংশে বান্দা তার উপার্জনে বরকতের প্রার্থনা জানায়। এর প্রকৃত তাৎপর্য হলো, রিজিককে সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র করা এবং তাতে কল্যাণকর প্রবৃদ্ধি দান করা। অল্প হলেও সেই হালাল রিজিকের ওপর যেন মন সব সময় তৃপ্ত থাকে, অবৈধ কোনো সম্পদের প্রতি যেন বিন্দুমাত্র লোভ না জন্মায় এবং বান্দা যেন সব সময় সন্তুষ্টচিত্তে জীবনযাপন করতে পারে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা