দেশে হামের সংক্রমণ ও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ গতকাল সোমবার সকাল থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ছয়জন। এ সময় নতুন করে ১ হাজার ৩১৮ জন হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮২ জনের। সব মিলিয়ে রোগীর সংখ্যা হয়েছে ১ হাজার ৪০০।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে আজ প্রকাশিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২৩ জন হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৩। উপসর্গ ও নিশ্চিত হামের রোগী মিলিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫২ জন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৫৮। অন্যদিকে নিশ্চিত হামের রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০৫।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন সন্দেহজনক রোগী ৫৪৬। চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩৬ জন, সিলেটে ১৪২, বরিশালে ১৩২, ময়মনসিংহে ১০০, খুলনায় ৯৪, রংপুরে ৩৫ ও রাজশাহী বিভাগে ৩৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের হামের প্রকোপ শুরু হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তখন হাম নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। পরে মার্চে হাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এপ্রিলে দেশজুড়ে হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু তখন ৪০ লাখ শিশু হামের টিকা পায়নি। সরকারের এই ব্যর্থতার জন্যই এখনো হামের প্রকোপ এবং এতে মৃত্যু কমছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশে প্রায় এক দশক ধরে হামে মৃত্যু প্রায় ছিলই না। সংক্রমণও শতকের ঘরে চলে এসেছিল। এ বছর হামে এত মৃত্যু ও সংক্রমণ দেশের ইতিহাসে হয়নি। এর পেছনে মূল কারণ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদানে গাফিলতি, গবেষকেরা তা–ই মনে করেন। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ বিভিন্ন সময় ওই সরকারের হামের টিকাদানে ব্যর্থতার কথা বলেছে।
সূত্র: প্রথম আলো

