পটুয়াখালীতে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, হামলার বিচার ও সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবিতে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেছেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধা।
রোববার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিনি অনশন শুরু করেন বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা।
অনশনরত মুক্তিযোদ্ধার নাম মো. আজাহার আলী হাওলাদার (৭৬)। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা।
আজাহার আলীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। এ জন্য তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেছেন।
আজাহার আলী বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বসতভিটায় নিরাপদে থাকতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরের কাজ শেষ করতে পারছি না। আমি আমার বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তিনি বলেন, সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও নানা বাধায় সেটির নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে এখনো ঘরটির সুবিধা পাচ্ছেন না তিনি।
১৪ সেপ্টেম্বর বিকাল পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কামাল গাজী (৫০), ফারুক গাজী (৪৫), শামীম (৪০), লিটন (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন তিনি।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরই মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এ মামলায় দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইউএনও বলেন, মুক্তিযোদ্ধার জন্য যে জমিতে সরকারি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটির মালিক তিনি নন। জমিটি সরকারি খাস এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এ কারণে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আজাহার আলীর নিজস্ব জমি থাকলে সেখানে ঘর নির্মাণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে তিনি এখনো আবেদন করেননি। বিষয়টি সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

