বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আক্তার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামের এক জেলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি।

শুক্রবার সকালে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ নিজ উদ্যোগে থানায় জিডি করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চলছে।

নিহত আক্তার হোসেন হাওলাদার হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর চারটার দিকে মেমানিয়া ইউনিয়নের ওরাকুল ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার পথে সকাল নয়টার দিকে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট পার হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় টহলরত নৌ পুলিশের গুলিতে আক্তার হোসেন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর জামাতা আবুল বাশার। তাঁর দাবি, শ্বশুরের মুখ ও বুকে ছররা গুলির আঘাত ছিল। অন্য জেলেদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, নৌ পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন।

নৌকায় থাকা প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আবদুল ব্যাপারী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে তাঁরা নদীর কিনারের দিকে যাওয়ার জন্য নৌকা ছাড়েন। এ সময় নৌ পুলিশ তাঁদের নৌকা লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে আক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।

তবে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বরিশাল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার নাজমুল হক জানান, বরিশাল নৌ পুলিশ ওই এলাকায় কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি এবং গুলিও চালায়নি। একইভাবে চাঁদপুর নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, ওই এলাকায় চাঁদপুর নৌ পুলিশেরও কোনো অভিযান ছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁদের কিছু জানা নেই।

নিহতের ঘনিষ্ঠজন জেলে হজরত আলী জানান, বরিশালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট পার হওয়ার পর সকাল নয়টার দিকে আক্তার হোসেনের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ হিজলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নৌ পুলিশের সদস্যরা পরিবারের কাছ থেকে মরদেহ নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এদিকে দেশে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ৮ অক্টোবর থেকে নদ-নদী ও সাগরে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান জানান, বুধবার রাতে তাঁদের কোনো অভিযানকারী দল মেঘনা নদীতে যায়নি। তাঁদের স্পিডবোট বিকল থাকায় শেষ দুই দিন ছোট ট্রলার নিয়ে সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে।

হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলিয়াস সিকদার বলেন, ঘটনাস্থলটি দুর্গম এবং চাঁদপুরের কাছাকাছি হওয়ায় কীভাবে গুলির ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।