দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজার পর বরিশাল অঞ্চলে আবারও তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমতে থাকায় একপর্যায়ে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ ঘাটতি তৈরি হয়। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবায়ও বিঘ্ন ঘটে।
জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির প্রভাবে তালতলীতে সাড়ে ৩৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। তবে পায়রা ও ভোলাসহ বরিশাল অঞ্চল থেকে জাতীয় গ্রিডে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও এ অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুতের দৈনিক সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সোমবার থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একপর্যায়ে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ে বরিশাল মহানগরীসহ আশপাশের এলাকায়। দুপুরের দিকে বরিশাল ও ঝালকাঠি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিকেল ৫টার দিকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলে ৮৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫০০ মেগাওয়াটেরও কম।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটায় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিকেল ৪টার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বাড়িয়ে চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাতের মধ্যে উৎপাদনে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও এর ফলে বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সঞ্চালন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশঙ্কা, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলেও রাতভর বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি অব্যাহত থাকতে পারে।

