দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীর মাদ্রাসামাঠে জনসভার প্রথম পর্বে ল্যাপটপের বাটন চেপে এই প্রণোদনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সঙ্গে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পৌঁছে যায়।

এরপর ১৫টি মিল জোনের ১৫ জন আখচাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমেই আখচাষি হিসেবে প্রণোদনা নেওয়ার জন্য রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদের (চাঁদ) নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রণোদনার চেক নেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন কেউ কেউ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার সকালে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি লিখেছেন, ‘বংশপরম্পরায় আমার বাপ-দাদা থেকে শুরু করে আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে আখ চাষ ও আখ সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যক্তিগতভাবে আমি রাজশাহী সুগার মিলে শত শত গাড়ি আখ সরবরাহ করেছি। আগামীতেও করব ইনশা আল্লাহ।’

তবে তাতেও সমালোচনা থামছে না। একজন সংসদ সদস্য হয়ে কেন মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রণোদনা আবু সাঈদ চাঁদ নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষি ও কৃষক রক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক মাহমুদ জামাল কাদেরী। তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য তো অসচ্ছল কৃষক নন। তিনি কেন এই সামান্য সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করবেন?’

কাদেরী আরও বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে, শতভাগ আখচাষিকেই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তবে এটা নিয়ে আমার সংশয় আছে। আমাদের রাজনৈতিক চরিত্র এটাই যে, জনপ্রতিনিধি হলে আমরা সবটাই নিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যেখানে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করছেন, সেখানে একজন সংসদ সদস্যকে কেন প্রণোদনার অর্থ নিতে হবে?’

কাদেরী আরও বলেন, ‘এই চর্চা নতুন নয়। আগেও দেখেছি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দলীয়করণ হয়। এখনো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সম্প্রতি আমরা সারের ডিলার নিয়োগেও এটা দেখলাম। সেখানে যোগ্যদের বাদ দিয়ে পুরোপুরি দলীয় বিবেচনায় ডিলার নিয়োগ হয়েছে।’

জানতে চাইলে এমপি আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘যাঁরা এসব কথা বলছেন, তাঁরা বিষয়গুলো জানেন না। সুগার মিল থেকে তদন্ত হয়। যারা আখ চাষ করে, তারা প্রণোদনা পায়। গত বছর আমার ১৮-২০ বিঘা আখ ছিল। এবারও আছে। আমরা বাপ-বেটা মিলে ১৯ হাজার টাকা পেয়েছি। সেটা তো এমপি হিসেবে নয়। একজন আখচাষি হিসেবে পেয়েছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চেক নেওয়ার জন্য তাঁকেই নির্বাচিত করার প্রশ্নে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘আমি নিতে চাইনি। ওরা (সুগার মিল কর্তৃপক্ষ) দিয়েছে। তাই নিতে হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সুগার মিলের উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি) তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কারা প্রণোদনার প্রতীকী চেক গ্রহণ করবেন, তা ঠিক করতে আমরা আমাদের জোনের সব আখচাষির নাম কম্পিউটারে দিয়েছি। কম্পিউটার নামের আদ্যক্ষর দেখে তালিকা করে দিয়েছে। আবু সাঈদের “আ” আগে থাকায় সংসদ সদস্যের নাম চলে এসেছে। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়েছে। আমরা কিছু করিনি।’

তানজিমুল ইসলাম জানান, আবু সাঈদ চাঁদ গত মৌসুমে ২ একর ৫০ শতাংশ জমিতে আখের সঙ্গে সাথি ফসলের চাষ করেছেন। সে হিসেবে তিনি সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রণোদনা পেয়েছেন। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আখ চাষ শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করতেই এই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রণোদনার নীতিমালায় আরও কিছু শর্ত আছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা আক্তার জাহান দাবি করেন, দেশের ১৫টি মিল জোনের একজন আখচাষিও প্রণোদনার অর্থ থেকে বঞ্চিত হননি। আখচাষি হিসেবে আবু সাঈদ চাঁদও পেয়েছেন। তিনি যে সংসদ সদস্য, এই ক্ষেত্রে তা বিবেচ্য বিষয় ছিল না।

সূত্র: আজকের পত্রিকা