পবিত্র কোরআনুল কারিমের সর্বশেষ দুটি সুরা হলো সুরা ফালাক (১১৩ নম্বর সুরা) ও সুরা নাস (১১৪ নম্বর সুরা)। মদিনায় অবতীর্ণ এ দুটি সুরার প্রথমটির আয়াত সংখ্যা পাঁচটি এবং দ্বিতীয়টির ছয়টি। উভয় সুরাতেই একটি করে রুকু রয়েছে। পরিভাষায় এই দুটি সুরাকে একত্রে ‘মুআউবিজাতাইন’ বা আশ্রয় চাওয়ার দুটি বিশেষ সুরা বলা হয়।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই দুই সুরায় মানুষের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, দৃশ্যমান ও অদৃশ্য—সব ধরনের অনিষ্ট, জাদুটোনা, হিংসা ও শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এই দুটি সুরার মধ্যে বান্দাকে সুরক্ষার অসীম ক্ষমতা ও প্রভাব রেখেছেন। হাদিস শরিফে এই দুই সুরার অনেক ফজিলত ও আমলের কথা গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:

—(সহিহ মুসলিম: ৮১৪; জামে তিরমিজি: ২৯০২)

হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) আরও বর্ণনা করেন, ‘এক সফরে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উটের পেছনে চলছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, “হে উকবা! আমি কি তোমাকে পঠিত দুটি উত্তম সুরা শেখাব না?” অতঃপর তিনি আমাকে শেখালেন কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আউজু বিরাব্বিন নাস। এ দুটি সুরা আমাকে এতটাই আনন্দ দিয়েছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৬২)

অনুরূপভাবে হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) তাঁকে এই দুটি সুরা পড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তুমি এই দুই সুরা পড়তে থাকবে। কারণ, এ দুটির মতো সহজে অন্য কোনো সুরা তোমরা পড়তে পারবে না।’ (সুনানে নাসায়ি: ৮/২৫৪; সহিহ ইবনে হিববান: ৭৯৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এই সুরা দুটি আমল করতেন।

হজরত আম্মাজান আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত:

—(সহিহ বুখারি: ৫০১৭; সুনানে আবু দাউদ: ৫০৫৮; জামে তিরমিজি: ৩৪০২)

দৈনন্দিন জীবনের নানা বিপদ-আপদ, মানসিক অস্থিরতা, হিংসা-বিদ্বেষ এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে আত্মরক্ষায় সুরা ফালাক ও সুরা নাসের আমল অত্যন্ত কার্যকর।

প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর নিয়মিত এই সুরা দুটি তিলাওয়াত করা উত্তম।

রাতে শোয়ার আগে হাত মিলিয়ে ফুঁক দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নেওয়া মুমিনের জন্য সুরক্ষার ঢাল স্বরূপ।

সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করলে সারা দিনের যাবতীয় ক্ষতিকর বিষয় থেকে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে হেফাজতে রাখেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহান কোরআনের এই বিশেষ দুই সুরার মর্ম অনুধাবন করার এবং দৈনন্দিন জীবনে তা নিয়মিত আমল করার তাওফিক দান করুন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা