সমগ্র বরিশাল অঞ্চলে হামের সাথে অপ্রতিরোধ্য ডেঙ্গুর দাপটের কাছে মানুষ খুবই অসহায় হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের শুধু সরকারী হাসপাতালেই ডেঙ্গু আর হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তির সংখ্যা ৪০ হাজার অতিক্রম করতে যাচ্ছে। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। আর গত ১৫ দিনেই বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হাম ও ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।
শুধু হাম নিয়ে এ অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তির সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারের কাছে। সাথেডেঙ্গু নিয়েও ভর্তি হয়েছেন আরো প্রায় ১৫ হাজার।
আক্রান্তের এ তালিকায় গত ১৫ দিনেই এ অঞ্চলের সরকারি হাসপাতাল গুলোতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ডেঙ্গু ও হাম রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। আর ডেঙ্গুতেই মারা গেছেন ৮ জন। হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে আরো ২টি শিশুর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে বরিশাল অঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় এপর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেয়া ২৪,৪১৫টি শিশুর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৭৪৩। তবে ইতোমধ্যে হাম সংক্রমন সহ উপসর্গে যে ৭২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৩টিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে শুধু সরকারি হসপাতালেই হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তিকৃত ২৩,৮৯৭ টি শিশুর মধ্যে ২৩,৩৯০টি শিশু সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছে।
তবে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন আর হাম ও ডেঙ্গু সহ বাড়তি রোগীর চাপ গ্রহন করতে পারছে না। এ হাসপাতালটির মাত্র ৭৬ শয্যার শিশু বিভাগে বৃহস্পতিবার রোগী ছিল প্রায় সাড়ে ৪শ। বিশাল এ হাসপাতল ভবনে কানপাতলেই নানা ধরনের আর্তনাদ ভেসে আসছে।
অপরদিকে এডিস মশার আক্রমনের শিকার হয়ে বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত ১৪, ৭৭৩ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ঘরে ফিরেছেন ১৪,০৯৬ ডেঙ্গু রোগী। যারমধ্যে বরিশালের শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ২২ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীর চাপে বরিশাল অঞ্চলের একমাত্র নিবিড় পরিচর্জা কেন্দ্রে- আইসিইউ সমৃদ্ধ এ হাসপাতালটিও বাড়তি রোগীর
চাপে ক্লান্ত। এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার রোগী। অথচ জনবল রয়েছে মাত্র আড়াইশ রোগীর। ফলে এ হাসপাতালটি থেকে সুষ্ঠু চিকিৎসা লাভ অনেক সময়ই ভাগ্যের ব্যপারে পরিনত হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশাল সিটি করপোরেশন আরো ফগার মেশিন ও হ্যন্ড স্প্রেয়ার সংগ্রহ করে পুরো নগরী যুড়ে মশক নিধনে নিবিড় কার্যক্রম গ্রহন করেছে। তবে এ অঞ্চলের ৩৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদ সহ ২৫ টি পৌর শহর গুলোতে এখনো মশক নিধন অভিযান অতটা যোড়াল নয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে সরকারি তরফ থেকেও ব্যপক পরিচ্ছন্ন অভিযানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও ব্যপক হারে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন পৌরসভা ও স্থনীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গুলোতে তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

