সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলের প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির মূল ভবনসহ সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও ১০ তলা এ ভবনের লিফট সংযোজনের কাজ আগামী মার্চ নাগাদ শেষ হচ্ছে। এ ছাড়া পুরো প্রকল্প এলাকার সীমানার প্রাচীর ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের নির্মাণ ও তা চালু করার কাজ চলতি অর্থ বছরের মধ্যে শেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে সাব-স্টেশন ভবনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ট্রান্সফর্মার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। পাশাপাশি লিফট সংগ্রহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এলসি খোলার কথাও জানান তিনি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমুদয় লিফট সরঞ্জাম প্রকল্প এলাকায় পৌঁছার পরেই তার সংযোজন শুরু হচ্ছে।

‘গ্রীন স্মার্ট বিল্ডিং’এর আদলে ‘বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম ও বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা/বরগুনা জাতীয় মহাসড়কের পাশে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়নাভিরাম এ ভবনটি এখন দৃশ্যমান। গত বছর ৩০ জুন ভবনটির ৩ ও ৪র্থ তলা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরে সেখানে দাপ্তরিক কাজ চলছে।

২০২১-এর ৭ ফেব্রুয়ারি ‘মেসার্স খান বিল্ডার্স-শফিক এন্টারপ্রাইজ জেভি’র সাথে ভবনটি নির্মাণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৬ কোটি ৪৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের ১০ তলা ভবনের নির্মাণ কাজের চুক্তি সম্পাদনের পরে নকশা সংক্রান্ত জটিলতাসহ প্রকল্প এলাকার জমি নিয়ে বিরোধে ২০ মাসের কাজ ৮০ মাসেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে লিফটের মূল্য বৃদ্ধি ছাড়াও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজও প্রকল্পভুক্ত করায় সর্বমোট প্রকল্পব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকায়। সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিল থেকে বরিশাল ছাড়াও প্রকল্পভুক্ত চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস ভবনসমূহের নির্মাণ কাজও সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন প্রায় ১ লাখ বর্গ ফুটের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্রের ভবনটিতে রিসেপশন, ওয়েটিং রুম, ওয়্যার হাউস, পরিচালক, রেজিস্ট্রার, প্রোগ্রামার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও শাখা কর্মকর্তাদের দপ্তর ছাড়াও সভাকক্ষ, সম্মেলন কক্ষ, আইসিটি সুবিধাসংবলিত ক্লাস রুম, আধুনিক রান্নাঘর, ডাইনিং, কমনরুম, ভিভিআইপি কক্ষ ও লাউঞ্জসহ ডাইনিং, রিসোর্স পার্সনদের কক্ষ ছাড়াও প্রশিক্ষণগ্রহণকারীদের জন্য আবাসন সুবিধা থাকছে। এ ছাড়া ভবনটির ৬ষ্ঠ তলায় শূন্য উদ্যানের সুবিধাসহ কয়েকটি তলায় খোলা ছাদ রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে মূল ভবনটির নির্মাণসহ সাজসজ্জার কাজের প্রায় ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল বিভাগীয় ভবনটি নির্মাণে সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে প্রতিটি কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেই নির্মাণ কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান।

গত বছর জুলাই থেকে ভবনটির ৩ ও ৪র্থ তলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাপ্তরিক কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক জানান, নির্মাণাধীন ভবনটি সম্পূর্ণ ব্যবহার উপযোগী হলে তা এ অঞ্চলের ১৮৫টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান তদারকিসহ উন্নয়নে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে জানান।