বরিশালের বাবুগঞ্জে দাম্পত্য কলহের জেরে ঐশী আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই নারীকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তার স্বামী ও দেবরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

নিহত ২৫ বছর বয়সী ঐশি আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে।

তার লাশ বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে নেওয়া সোহেল উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

নিহতের চাচা সোহেল হাওলাদার বলেন, “এক বছর দুই মাস আগে ঐশির সঙ্গে সোহেলের বিয়ে হয়। এটা তাদের দুইজনের দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পরে সোহেল তার তালাক দেওয়া প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। এ নিয়ে ঐশির সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এর জেরে চার-পাঁচদিন আগে ঐশিকে সোহেল মারধর করে বলেও অভিযোগ সোহেলের।

তার ভাষ্য, “মারধরে ঐশি অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রাম্য চিকিৎসক দেখিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে রাখা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ঐশিকে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলা হলেও সোহেল তা করেনি। সোমবার সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক তাকে বলেছেন, হাসপাতালে নেওয়ার অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আগে ঐশির মৃত্যু হয়েছে।

চাচা সোহেল বলেন, “ঐশির মা নেই। বাবা অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী। তাই ঐশির একমাস ১২ দিন বয়সী শিশু সন্তানকে একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ঐশিকে হত্যার ঘটনায় সোহেল, তার বাবা, মা ও ভাইকে আসামি করে মামলা করা হবে।”

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একে মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।”

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের স্বামী ও দেবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।