একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে মণ্ডপের চেহারা। কোথাও প্রতিমার মুখে বসছে শেষ রঙের আঁচড়, কোথাও চলছে পোশাক ও অলংকার পরানোর প্রস্তুতি। বাঁশের কাঠামোয় কাপড় টানানো, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও আয়োজকেরা। সন্ধ্যা নামলেই কোথাও কোথাও জ্বলে উঠছে আলো। কয়েক দিন আগেও যেসব মণ্ডপে ছিল শুধু নির্মাণের ব্যস্ততা, এখন সেখানেই ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে শারদীয় উৎসবের আমেজ।
বরিশাল শহর থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এখন শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এ বছর বরিশাল জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে জেলার ৫৯০টি এবং মহানগরীর ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার একটি মণ্ডপ বেড়েছে।
নগরীর ফলপট্টি কালীমাতা ঠাকুরনীর মন্দির ও সদর রোডের শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। কোথাও প্রতিমায় রং করার কাজ প্রায় শেষ, আবার কোথাও চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও কারিগরেরা।
প্রতিমাশিল্পী রণজিৎ পাল বলেন, প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে রংসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচ আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় এবার প্রতিমা তৈরিতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।
প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানোর কাজও চলছে পুরোদমে। আলোকসজ্জার কর্মীরা বিদ্যুতের তার ও বাতি বসাতে ব্যস্ত। আয়োজকদের কেউ কেউ জানান, শেষ মুহূর্তে মণ্ডপের সাজসজ্জায় আরও কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন করা হবে।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও ২০ অক্টোবর মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নজরদারি ও টহল জোরদারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আয়োজকেরাও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বরিশাল মহানগরী পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, মহানগরীতে এবার ৪৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। অধিকাংশ মণ্ডপের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সিসি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে। পূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পূজার আয়োজনের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পূজার দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে গত রোববার দুপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পূজা উদযাপন পরিষদ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বরিশালের মণ্ডপগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। প্রতিমায় শেষ রঙের আঁচড়, মণ্ডপে আলোকসজ্জা আর সাজসজ্জার কাজ শেষে অপেক্ষা এখন শারদীয় উৎসবের।

