বরিশাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নাজমুল হক রিমন (৩২) নামে এক কলেজ কর্মচারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আদালত ভবনের পশ্চিম পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাজমুল হক রিমন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি বরিশাল নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে। ঘটনার একদিন আগে কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে অডিট কমিটি।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সিসিটিভির ফুটেজে যতটুকু দেখা গেছে, তাতে নাজমুল হক রিমন নিজে থেকেই চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ সময় সেখানে অন্য কারোর উপস্থিতি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়নি। তাছাড়া আদালতে প্রবেশ এবং ঝাঁপ দেওয়ার আগেপরে তার সঙ্গে কোনো কাগজপত্র বা ফাইল ছিল না।

ওসি বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি- ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রিমন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে দায়িত্ব পালন করেন। তবে কী কারণে তিনি আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আদালতের দ্বিতীয় তলার হাজতখানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য মো. হানিফ বলেন, ‘হঠাৎ করে বাইরে থেকে একটা বিকট শব্দ পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখতে পাই নিচে একজন পড়ে আছে। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় করা একটি মামলার বাদী ছিলেন রিমন। একই থানায় অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৫ সালে করা একটি মামলায় তিনি আসামি ছিলেন বলেও জানা গেছে। পারিবারিক বিষয় নিয়েও স্ত্রীর সঙ্গে একটি মামলা চলমান ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এছাড়া কলেজের অর্থসংক্রান্ত হিসাব নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। কলেজের হিসাবরক্ষক শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ সোমবার (৫ অক্টোবর) কলেজের অডিট সম্পন্ন হয়। অডিটে ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যাংকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ৩৮ হাজার টাকা জমা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অডিট কমিটি আপত্তিসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং মামলা করার সুপারিশ করে। তবে ঘটনার সময় পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান হিসাবরক্ষক শেখ ফরিদ আহমেদ।

তবে আদালত ভবন থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পেছনে এসব কারণ নাকি অন্য কোনো কারণ আছে সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আপাতত এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।