বরিশাল ০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতা হত্যায় ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার পান দুই এএসআই চাঁদা না পেয়ে চরের ঘাসে বিষ: তিন মহিষের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক ২৭ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি আগৈলঝাড়ায় ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা পদ্মা সেতুতে বড় দুর্ঘটনা থেকে বাঁচল যাত্রীবোঝাই বাস, ঢালে বাস উল্টে আহত ১০ বরিশাল বিভাগে বছরে ৩০ হাজার মানুষ চোখের ছানিতে আক্রান্ত পটুয়াখালীতে সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবা আটক শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালনা কমিটিতে বরিশাল প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

Agailjhara Post
  • ১২:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / 50

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আদালত জানান, এই তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ, ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগেই তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের আরও বলা হয়, রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভিকটিমকে গুরুতর আহত, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা এবং দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায়েও ইনুকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

তবে ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক অ্যাখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা দেন এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।

অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

১২:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আদালত জানান, এই তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ, ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগেই তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের আরও বলা হয়, রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভিকটিমকে গুরুতর আহত, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা এবং দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায়েও ইনুকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

তবে ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক অ্যাখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা দেন এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।

অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।