ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ ব্যবস্থার কারণে প্রায় কূটনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন জাপানের মন্ত্রী রিওসেই আকাজাওয়া। আজ শুক্রবার তিনি এ অভিযোগ করেন। প্ল্যাটফর্মটির স্বয়ংক্রিয় অনুবাদে এমনভাবে তথ্য পরিবর্তিত হয়েছিল, যাতে মনে হয়, যেসব বিশ্বনেতার সঙ্গে তিনি বৈঠক করছেন, তাঁদের নামই তিনি জানেন না।

জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী রিওসেই আকাজাওয়া সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় তাঁর জানা আছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের ছবিসংবলিত একটি পোস্টের অনূদিত সংস্করণে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম যুক্ত হয়ে যাওয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন। একই ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন জাপানের পার্লামেন্ট ডায়েটের সদস্য এবং সাবেক অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়সুতোশি নিশিমুরা।

আকাজাওয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি আসলে একটি গুরুতর বিষয়। এমনটা সম্ভব যে, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হতে পারে যে, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে, সেটিও জানেন না।’

গত ২৮ অক্টোবর এক্সে জাপানি ভাষায় দেওয়া মূল পোস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করেছিলেন আকাজাওয়া। ওই সময় তারেক রহমান জাপান সফরে ছিলেন। পোস্টটির সঙ্গে তাঁদের দুজনের কয়েকটি ছবিও যুক্ত করেছিলেন তিনি। কিন্তু এক্সের স্বয়ংক্রিয় মেশিন অনুবাদ ব্যবস্থায় ইংরেজি সংস্করণে ভুলভাবে তারেক রহমানের নাম পরিবর্তন করে শেখ হাসিনার নাম বসানো হয়। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।

এদিকে আজ নিজের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডলে গত ২৮ অক্টোবর শেয়ার করা পোস্ট রিপোস্ট করে রিওসেই আকাজাওয়া লিখেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে আমি যখন পোস্ট করেছিলাম, তখন জাপানি ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নাম উল্লেখ করা সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মটির (এক্স) স্বয়ংক্রিয় অনুবাদে ইংরেজিতে নামটি ভুলভাবে অনূদিত হয়। এর ফলে বিদেশে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। যে প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিনামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও নির্ভরযোগ্যভাবে অনুবাদ করা যায় না, সেই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম ও অনুবাদব্যবস্থা নিয়ে মৌলিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন!’

তবে অনুবাদজনিত বিভ্রাটের কারণে আকাজাওয়ার বিপাকে পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার কুয়েতের তেলমন্ত্রী তারেক আল-রুমির সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক নিয়ে দেওয়া তাঁর একটি পোস্টেও একই ধরনের ভুল হয়েছিল। এক্সের স্বয়ংক্রিয় অনুবাদে ওই বৈঠককে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হিসেবে দেখানো হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে দেওয়া তাঁর আরেকটি পোস্টের অনূদিত সংস্করণেও ভুল নাম উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানান আকাজাওয়া। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে তিনবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি।’ একই সঙ্গে এক্স কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুবাদ ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি এক্স কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর জাপানের পার্লামেন্ট ডায়েটের সদস্য এবং সাবেক অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়সুতোশি নিশিমুরা গত মঙ্গলবার জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর নিজের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডলে তিনি ছবি শেয়ার করে একটি ক্যাপশন দেন।

জাপানি ভাষায় দেওয়া ক্যাপশনে এমপি নিশিমুরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক ‘রহমান’কে উল্লেখ করলেও এক্সের স্বয়ংক্রিয় অনুবাদে ইংরেজিতে সেটি ‘হাসিনা’ হয়ে যায়। যাচাই করে দেখা গেছে, ইয়সুতোশি নিশিমুরা তাঁর এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করা জাপানি ভাষার মূল ক্যাপশন গুগল ট্রান্সলেটসহ চ্যাটজিপিটি এবং জেমিনাইয়ের অনুবাদে প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেন ‘রহমান’।

এই বিভ্রান্তির কারণে অনেকেই এক্স ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টটির ইংরেজি অনুবাদের স্ক্রিনশট নিয়ে শেয়ার করছেন। যদিও মূল জাপানি ভাষার পোস্টে জাপানের ওই এমপি ‘প্রধানমন্ত্রী রহমান’ বলেই উল্লেখ করেছেন।

জাপানি ভাষায় তিনি যা লিখেন তার উচ্চারণ এমন, ‘Banguradeshu no rāman shushō to kaidan shimashita. Dōkoku to no giren wa Asou kaichō no moto, watashi ga kanji-chō o tsutomete imasu. Shushō kara wa, jinzai ikusei nado Nihon no shien no yōsei ga arimashita. 1 Oku 7 sen man-ri no jinkō o kakaeru shinkyōkokudesu. Nihon to shite hajimete shinkyōkoku to EPA (keizai renkei kyōtei) teiketsu ni dōi shita kunidesu. Kankei o kyōka shite ikimasu.’

গুগল ট্রান্সলেটের বাংলা অনুবাদে তাঁর পোস্টের অর্থ দাঁড়ায়, ‘আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমি দেশটির সঙ্গে গঠিত সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, যার সভাপতিত্ব করেন জনাব (তারো) আসো। প্রধানমন্ত্রী মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে জাপানের সহায়তা চেয়েছেন। বাংলাদেশ ১৭ কোটি জনসংখ্যার একটি উদীয়মান রাষ্ট্র। এটিই প্রথম উদীয়মান দেশ, যার সঙ্গে জাপান একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনে সম্মত হয়েছে। আমরা আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করা অব্যাহত রাখব।’

সূত্র: আজকের পত্রিকা