মাদারীপুরের ডাসারে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় পুতুল সমাদ্দার (৫২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী অরুন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ধামুসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকে অরুণ সমাদ্দার পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিহত ধামুসা প্রামের বাসিন্দা ও মৃত পুলিন নাগের মেয়ে। অভিযুক্ত অরুণ সমাদ্দার একই গ্রামের মৃত জিতেন সমাদ্দারের ছেলে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরুণ সমাদ্দারের সঙ্গে একই গ্রামের এক নারীর নামে এক গৃহবধূর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস-মীমাংসা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি নিহতের পরিবারের। বৃহস্পতিবার ভোরে এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে রান্নাঘরে তাদের মধ্যে ধস্থাধস্থির ঘটনা ঘটে। এসময় পুতুলের চিৎকার শুনে অরুণের বড় বোন পুষ্প দাস সেখানে ছুটে যান। পরে পুতুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এ ঘটনার পর অরুণ পালিয়ে গেছেন।

নিহতের বড় বোন পুষ্পা রাণী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোনজামাই অরুণের চরিত্র ভালো ছিল না।

একই এলাকার এক গৃহবধূর সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এমনকি ওই নারীকে বাড়িতেও নিয়ে আসতেন। এ নিয়ে আমার বোন প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন। সেই বিরোধের জেরেই আমার বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমি অরুণ ও তাঁর কথিত পরকীয়া প্রেমিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ডাসার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গৌতম সরকার বলেন, ‘পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও অভিযুক্ত নারী পলাতক রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।’

ডাসার থানার ওসি সোলাইমান মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুতুল সমাদ্দারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’