দেশের বাজারে আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। যশোরের বড়বাজারে এমন অভিযোগের পাশাপাশি মিয়ানমার ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও ইলিশ আসছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১৯টি আমদানিকারকের মাধ্যমে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টে এসেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি এবং জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি।
আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, শুল্ক, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এক কেজি আমদানি করা ইলিশের দাম পড়ে প্রায় ৫১৪ টাকা। তবে যশোরের বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম উঠছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বিদেশি ইলিশের আকার ও চেহারা অনেকটা দেশি ইলিশের মতো হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা সহজে পার্থক্য বুঝতে পারছেন না। কেউ কেউ দাবি করছেন, আমদানি করা ইলিশকেই ‘বরিশালের ইলিশ’ বলে বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা একদিকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠাচ্ছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে বিদেশি ইলিশের আমদানি এবং অন্যদিকে বাংলাদেশি ইলিশ রপ্তানির উদ্যোগ—দুই দিকের বাণিজ্যই দেশের ইলিশের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

